বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০২ অপরাহ্ন

যমুনা নদীর ইকোনিক করিডোর উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২

নিউজটি শেয়ার করুন

যমুনা নদীর ইকোনিক করিডোর উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই নদীর ইকোনিক করিডোর উন্নয়ন আরো অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় রাজনৈতিক নেতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গির কারণে তা করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার রাজধানী রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’র শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি’র উদ্যোগে “যমুনা নদীর ইকোনমিক করিডোর উন্নয়নঃ সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা এবং কৌশল প্রনয়ণ” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, এমপি। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, এমপি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং রয়েল মিলিটারি কলেজ, কানাডার সংযুক্ত অধ্যাপক ড. এস এম হাবিবুল্লাহ বাহার, পি.ইঞ্জ.। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডর মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রশিদ।

অনুষ্ঠানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. মো. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন, উপকমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার রনক আহসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, যমুনা নদীর উন্নয়নের করিডোর অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিলো। এমনকি শাখা নদী গুলোরও করিডোর উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বিএনপি জামায়াত জোটের রাজনৈতিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন এই উন্নয়ন করিডোর বাস্তবায়ন করতে প্রকৌশলীদের সহযোগিতা লাগবে, একই সাথে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও লাগবে।

তিনি বলেন, যে কোন কানেক্টিভটি দেশের উন্নয়নের দুয়ার খুলে দেয়। যমুনা নদীর ইকোনিক করিডোর উন্নয়নের কথা চিন্তুা করেই দুই পাশের স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এই করিডোর শুধু বাংলাদেশের মাঝে পন্য পরিবহনে অবদান রাখবে, তা নয়। এই করিডোর বিদেশেও পন্য পরিবহন করতে সহায়তা করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় যমুনা তীরের মানুষের এখন উন্নতর জীবন ও জীবিকার স্বপ্ন দেখছে।

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি বলেন, যমুনা নদী ঘিরে বাণিজ্য ও শিল্পায়নের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। যমুনা নদীর ইকোনমিক করিডোর উন্নয়ন করতে পারলে রফতানিমুখী শিল্পায়ন গড়ে উঠবে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে যমুনা নদীর উপর সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে।

তিনি বলেন, যমুনার তীরকে অথনৈতিক জোন হিসেবে কাজে লাগাতে না পারা দুঃখজনক। যমুনা নদীর করিডোরকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য সরকার নদী শাসন ও নদী রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বন্যার ঝুঁকি কমানো ও নদীর পানি প্রবাহ বাড়ানো, পলি ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে। ১৩ বছর আগেও দেশে নদী ভাঙন কবলিত এলাকা সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে নদী ভাঙন কবলিত এলাকা সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরে নিয়ে এসেছে। আরো কয়েক বছর কাজ করলে এক হাজার হেক্টরের নিচে নিয়ে আসা যাবে। যা এক সময় আর থাকবে না।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে নদী ও বন্যা ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিয়েছিলেন। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও পানি ব্যাবস্থাপনা, নদী খনন, পানি নিষ্কাশন ও নদী শাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একশ বছর পরের বাংলাদেশের জন্য তিনি ‘ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০’ দিয়েছেন। সুনীল অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে যমুনা করিডোর ঘিরে নেয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের অথনীতিতে আরো গতি সঞ্চার হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ এর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে, ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশও বাস্তবায়িত হবে।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x