বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

বুর্জোয়া সংস্কৃতির প্রভাবে সকল ঐক্য ভেঙে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০২২

নিউজটি শেয়ার করুন

বাসদ (মার্কসবাদী)’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় আলোচকবৃন্দ বলেছেন, সভ্যতা বিশ্বব্যাপী একটা ক্রান্তিকালে এসে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে এখন বুর্জোয়া সংস্কৃতির প্রভাবে সকল ঐক্য ভেঙে যাচ্ছে। জনজীবনে নানামুখী সংকট বাড়ছে। তাই পুঁজিবাদের সকল ধরনের ধ্যান-ধারণা ও সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা। দলের কেন্দ্রীয় নিবার্হী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভারতের এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) পার্টির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষ ঘোষ, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মোস্তফা ফারুক।

সভায় অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শোষণমুক্তির চিন্তাটাই কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীকে আজীবন তাড়া করে ফিরেছে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতেই তিনি তাঁর জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন। বিপ্লব হচ্ছে সার্বক্ষণিক কাজ। এই চর্চার দিকটাকেই তিনি সামনে এনেছেন। তিনি আরো বলেন, বিপ্লব মানে মূলতঃ সমাজ বিপ্লব, সেই সমাজ বিপ্লব করতে হলে সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রস্তুতিটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সাংস্কৃতিক প্রস্তুতির দিকটাকে কমরেড হায়দার সবসময় সামনে রাখতেন। সামাজিক মালিকানার সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন।
ভারতের এসইউসিআই নেতা প্রভাষ ঘোষ বলেন, পুঁজিবাদ নিজের স্বার্থে ফ্যাসিবাদকে আমদানি করেছে। ভারতবর্ষে ফ্যাসিবাদ আমদানি করে কংগ্রেস। বিজেপি ফ্যাসিবাদকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই সংকট মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী কমিউনিস্ট পাটি। তাই কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমাজতন্ত্রই একমাত্র মানব মুক্তির পথ। মুবিনুল চৌধুরী সেই সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ৬ জুলাই ৮৭ বছর বয়সে কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী প্রয়াত হন। তিনি আমৃত্যু এদেশের শোষিত মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। শৈশবেই ভারতে এসইউসিআইসি দলের সাথে যুক্ত হন এবং স্বাধীন বাংলাদেশে এসে কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ে তোলেন কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x