মঙ্গলবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

সরকার ইভিএমে আগামীতে ‘ভোট লুট’ করার চক্রান্ত করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০২২

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকার ইভিএমে আগামীতে ‘ভোট লুট’ করা্র চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন নজরুল ইসলাম খান। রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ তারা ক্ষমতায় থেকে ভোট চুরি করেছে, ডাকাতি করেছে। এবার তারা ইভিএমের নামে লুট করতে চায়।”

‘‘ আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, কিছুতে দেয়া হবে না, কোনো মতেই নয়। এদেশটা আমরা লিজ দেই নাই কাউকে। এদেশ আমাদের, এদেশকে আমরা বাঁচাব ইনশাল্লাহ।”

বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন নয় উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘ আজকে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের স্থায়ী একটা ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেই কারণে দরকার জনগনের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার। আর সেরকম কখনো এদেশে কায়েম হবে না যদি এই সরকার ক্ষমতায় থাকে।”

‘‘ শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে আমরা বাকশালের একদলীয় শাসন থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। এবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবার আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব ইনশাল্রাহ। সেই লড়াইয়ে আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং সাহসিকতায় এগিয়ে যাবে এই আহবান আমি জানাচ্ছি।

বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে সারাদেশে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়। কেরানীগঞ্জ, ধামরাই, সাভার, নবাবাগঞ্জ ও দোহার থানা থেকে নেতা-কর্মীরা হাত পাখা ও হারিকেন হাতে নিয়ে সমাবেশে মুহুর্র মুহুর্র শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘ আজকে দেশের মানুষ কষ্টে আছে। বিদ্যুত নেই। ঢাকায় যারা আছেন কিছুটা ভালো আছেন। কিন্তু গ্রামের মানুষ আরো কষ্টে আছে। সারা দিনে গ্রামে ৪/৫ ঘন্টার বেশি বিদ্যুত থাকে না।এই গরমের দিনে কি কষ্টে আছে মানুষ বুঝুন।”

‘‘ কৃষকরা যারা পাম্প দিয়ে ক্ষেতে চাষ করে তাদের পাম্প চলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে যদি পানি না দিতে পারে তাহলে ফসল উতপাদন হবে। ক‘দিন পরে যখন ফসল একটু বড় হবে তখন সারও লাগবে। এই সরকার বিদ্যুতের অভাব দেখিয়ে, জ্বালানি তেলের অভাব দেখিয়ে সার কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। কোথায় পাবে মানুষ সার, কিভাবে দেশের কৃষির উন্নয়ন হবে, আমার কোটি কোটি কৃষক বাঁচবে কিভাবে। আমাদেরকে পুরোপুরিভাবে পরনির্ভরশীল করার চেষ্টা হচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ রেকর্ড বলছে যে, বাংলাদেশে ৮ বছরের যে বাজেট তার চেয়ে বেশি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বিদ্যুত খাতের উন্নয়নের জন্য। বলা হয়েছিলো যে, আমাদের যা বিদ্যুত প্রয়োজন তার চেয়ে ডাবল আমাদের উতপাদন ক্ষমতা হয়ে গেছে, আমরা বাইরে বিদ্যুত রপ্তানি করবো। অথচ আমরা দেখলাম রপ্তানি না। আরো বিদ্যুত আমদানির জন্য অনেক বেশি টাকায় আদামি গ্রুপের(ভারত) সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের লাইন বসে নাই, অথচ কোটি কোটি টাকা তাদেরকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

কুইক রেন্টাল বিদ্যুত প্ল্যান্টকে ‘আজব’ উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘এই কুইক রেন্টালের নামে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা জনগনের পকেট কেটে কিছু ব্যক্তিকে দেয়া হচ্ছে।শুধু শুধুই কি দেয়া হচ্ছে, নাকী এর বিভিন্ন ভাগ বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। না গেলে অপ্রয়োজনীয় এই খাতে কেনো টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।”

‘‘ আমাদের উতপাদন ক্ষমতা এতোই বেশি তাহলে কেনো এতো বেশি টাকা দিয়ে আামরা কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের চুক্তি বার বার বাড়াচ্ছি? এমন কি আইন করা হয়েছে সংসদে যে এসব দুর্নীতি-অনাচারের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে আপনি মামলা করতে পারবেন না। জনগনের টাকা লুট করা হবে আর জনগন তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতেও যেতে পারবে না। এরকম অনাচার কোনোভাবে গ্রহনযোগ্য নয়।”

‘খেলাপী ঋণ প্রসঙ্গে’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘ মাত্র কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন সার্কুলার জারি করেছে, আগের যাদের খেলাপী ঋণ ছিলো তাদের ১০ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করে ঋণ পরিশোধের নতুন সিডিউল করতে হতো এবং না দিলে জরিমানার পরিমান ছিলো প্রায় ১০ শতাংশ।”

‘‘ এখন নতুন আইন হয়েছে যা এখন দুই বছরের মধ্যে না, ১০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে চলবে। আর যে পরিমান টাকা জমা দিয়ে সিডিউল করবেন সেটা ১০ থেকে ৩০ না, আড়াই থেকে ৬ ভাগ টাকা পরিশোধ করে ঋণ শিডিউল করতে পারবেন। এই যে খেলাপীদের যাদের তাদেরকে এই সুবিধা দেয়ার অর্থটা কী? তারা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপী বসে থাকবেন আর জনগনের পকেট কেটে আপনার ট্যাক্স বসাবেন, ভ্যাট বসাবেন নতুন করে- এটা জনগন মানতে রাজি নয়।”

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের হিসাব বৃদ্ধি ও অর্থ পাচার করে বিদেশে সেকেন্ড হোম বানানোর ক্ষমতাসীনদের সম্পৃক্ততা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘ যারা অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করছে, বিদেশে পাচার করছে, দেশটাকে ফোকলা করে দিচ্ছে তাদের পক্ষের সরকার এটা।”

নজরুল বলেন, ‘‘বিএনপি জনগনের পক্ষের দল বিএনপি। জনগনের যে আজকে কষ্ট, আজকে তাদের যে দুগর্তি, তাদের যে সংকট এই সংকটে তাদের পাশে থেকে তাদের সাথে নিয়ে মোকাবিলার জন্য এগিয়ে যেতে হবে।”

‘‘ আগামী দিনের আমার তরুন প্রজন্মের কাছে অনুরোধ- এই দেশটাকে যদি বসবাসের যোগ্য করতে চান, যদি দুর্নীতি-অনচার মুক্ত করতে চান, যদি স্থায়ী সমৃদ্ধি অর্জন করতে চান তাহলে এই ফাঁকা বেলুনের মতো উন্নয়ন নয়, স্থায়ী উন্নয়ন-টেকসই উন্নয়ন। তাহলে এই গণবিরোধী অনির্বাচিত সরকারের পতন ঘটাতে হবে, নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, ‘‘ সরকারের কাছে আমার বক্তব্য পরিস্কার, জনগন কল্যাণ করবে বলে জোর করে আপনারা দায়িত্ব নিয়েছেন। জনগন আজ কষ্টে আছে আপনি কষ্ট দূর করতে পারছেন না। প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। যারা হালাল উপার্জন করে তারা চলতে পারছে না।”

‘‘ শুধু যারা হারাম উপার্জন করে এবং সরকারের সুবিধাভোগী তারা শুধু আনন্দে আছে। তাদের জন্য দেশ স্বাধীন করা হয় নাই, স্বাধীন করা হয়েছে দেশের মানুষের জন্য। আজকে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেই কারণে দরকার জনগনের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার। আর সেরকম কখনো এদেশে কায়েম হবে না যদি এই সরকার ক্ষমতায় থাকে।”

জেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ার মো. সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, জেলার কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন মাস্টারসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x