মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

ঢাবি জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ নেতারা ভাই-ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০২২

নিউজটি শেয়ার করুন

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হল কমিটি ঘোষণার পরপরই শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে মিলেমিশে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন। বিভিন্ন সময়ে তারা সেই সম্পর্ক প্রকাশ্যে জাহির করেছেন। কিন্তু বাস্তবে দুই গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আগস্ট মাসেই তারা তিনবার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন।

রুম দখল, হলে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক কর্মসূচীতে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। সর্বশেষ সর্বশেষ শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সভাপতি কামাল উদ্দিন রানার অনুসারী ফরিদ জামান, জাহিদসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ‘নিয়মিতই হলের ছাদে মাদক সেবন করেন হল ছাত্রলীগের কর্মীরা। শুক্রবার রাত আনুমানিক দেড়টার সময় সভাপতি গ্রুপের কর্মী থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফরিদ জামান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাকিবুর রহমান সায়েম, লোক প্রশাসন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল হোসেন সাগরসহ কয়েকজন মাদক সেবন করছিলেন হলের প্রধান ভবনের ছাদে। একইসাথে ছাদের অন্যপাশে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের তৃতীয় বর্ষের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান রাহি, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আব্দুর রহিম শান্ত, একাউন্টিং বিভাগের রাজিব রবিনসহ বেশ কয়েকজন মাদক সেবন করছিলো। এসময় তারা উচ্চস্বরে গান গাওয়ায় ফরিদ জামান এসে তাদেরকে চলে যেতে বললে বাকবিতন্ডা বাধে। একপর্যায়ে ফরিদ রাহিকে চড় দিলে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ফরিদসহ আরও তিন জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রুপের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে হল ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদক এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে হলের অতিথি কক্ষে বসে মীমাংসার চেষ্টা করেন।

এর আগে গত ২২ আগস্ট বিকালে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করে জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ। ওই সভায়ও হাতাহাতিতে জড়ায় দু গ্রুপের কর্মীরা।

এছাড়াও গত ২ আগস্ট মধ্যরাতে হলের ২৭৪ নং কক্ষ দখল নিয়ে দু গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হলে শোডাউন দিতে থাকে। পরবর্তীতে হলের দুই শীর্ষ নেতা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

হল ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, সভাপতি কামাল উদ্দিন রানার অনুসারী ফরিদ জামান প্রায়ই সংঘর্ষ বাধায়। হল সভাপতি কামাল উদ্দিন রানার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ায় জুনিয়র কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এতে করে অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যে ফরিদকে নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতেও ফরিদই প্রথমে জুনিয়রদেরকে মারধর করলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

এই বিষয়ে জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা বলেন, ‘হল শাখা ছাত্রলীগ একটা পরিবারের মতো। পরিবারেও ভাই বোনদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়। এখানেও সেরকম। আমরা সবাই বসে এই বিষয়গুলো সমাধান করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে যেনো এরকম কখনো আর না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি।’

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রহিম বলেন, ‘রাতের ঘটনার পরই শুক্রবার সকালে আমি সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলেছি। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আশ্বাস দিয়েছে এই ধরণের ঘটনা আর ঘটবে না। পরবর্তীতে এই ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই ব্যবস্থা নিবো।’

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x