শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

অপরাধীদের মূর্তিমান আতঙ্ক এএসপি লাবীদ আব্দুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০২২

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্গ্রাম অঞ্চলের মিরসরাই অর্থনৈতিক ও পর্যটনসহ নানা কারনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে অপরাধীদের দৌরাত্মও তুলনামূলক বেশি। দিনের পর দিন অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলছিল। তবে বিগত কয়েক বছরে পাল্টে গেছে সেই চিত্র।

এর নৈপথের নায়ব এই উপজেলার দুই থানার দায়িত্বে আছেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার লাবীব আব্দুল্লাহ। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার ও দুই থানার অফিসার ইনচার্জের সহযোগিতায় চোর ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে এখন অপরাধীদের আতঙ্কের নাম এখন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ইতিমধ্যে তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর মিরসরাইয়ে আলোচিত মোটর সাইকেল চোর চক্রের মূল হোতাসহ ১৩টি চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার করেছেন বিপুল পরিমাণ মাদক। উপজেলায় কমেছে ডাকাতি ও চুরি।

মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষজনের সঙ্গে আলাপকালের তারা এই পুলিশ কর্মকর্তার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তারা বলেন, এই এএসপি যোগদানের পর থেকে মিরসরাইয়ের অপরাধীদের বিচরণ কমে গেছে। কারন তাকে সব সময় অপরাধীদের ধরতে তৎপর ও অভিযানে থাকতে দেখছি।

মিরসরাই এএসপি সার্কেল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর মিরসরাই সার্কেলে সিনিয়র সহকারী এএসপি হিসেবে যোগদান করেন লাবীদ আব্দুল্লাহ। তিনি যোগদানের পর চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের নিদের্শক্রমে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করে। তার নেতৃত্বে বড় অভিযানগুলোর মধ্যে গত ৯ মার্চ তিনি নিজে অংশগ্রহণ করে করেরহাট ইউনিয়ন থেকে ৩৮ কেজি গাঁজা, ১২৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেন। গত ৬ মে ২৯ বোতল হুইস্কি ও ১২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গত ২৩ জুন ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা করা হয়। গত ১২ এপিল একটি পরিত্যক্ত পাইপ গান উদ্ধার করা হয়।

যেখানে তিনি যোগদানের আগে প্রতি মাসে মিরসরাই সার্কেলে ৩০০-৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হতো বর্তমানে প্রতি মাসে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার উদ্ধার হচ্ছে। মিরসরাইয়ের বড় একটি সমস্যা ছিল মোটর সাইকেল ও গরু চুরি। তিনি যোগদানের পর মোটর সাইকেল চোর চক্রের মূলহোতা ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া ১৩টি মোটর সাইকেল। ডাকাতি রোধে ১৩ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে পাওয়া অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত পূর্বক মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় খুনের সাথে জড়িত বোবাইয়া বশরকে। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে মাক্স বিতরণ ও সম্প্রতি শেষ হওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শেষ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয় সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গা পুজায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত বিদেশী নাগরিকদের বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, জনবান্ধব পুলিশ হলে যে কোন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করা সম্ভব। যা এএসপি লাবীদ আব্দুল্লাহ প্রমাণ করতে পেরেছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই সার্কেলের সিনিয়র পুলিশ সুপার লাবীদ আব্দুল্লাহ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করতে গিয়ে বুঝতে পারি যে তাদের গড ফাদাররা অনেক শক্তিশালী। যা অনেক সময় প্রভাব বিস্তার ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুলিশের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করে। কিন্তু চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার ও দুই থানার ওসির আন্তরিকতার কারণে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। তাই পুলিশ সুপার মহোদয় ও দুই থানার ওসিকে ধন্যবাদ

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x