শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

আদানি ইস্যুতে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট ‘টার্গেটেড’: শারদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ গবেষণা সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ ভারতের বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপকে নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, সেটা ‘টার্গেটেড’ (লক্ষ্যবস্তু) মনে হচ্ছে সেদেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিক শারদ পাওয়ারের কাছে।

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভারতসহ বিভিন্ন পরিসরে আদানি গ্রুপকে নিয়ে আলোচনা হলেও শিল্পগোষ্ঠীটির পক্ষেই আওয়াজ তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে যারা আদানি গ্রুপকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা করেছে, তাদের সমালোচনা করেছেন শারদ।

শারদ পাওয়ার ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান। এনসিপি ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের রাজনৈতিক মিত্র। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনায় সরব কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এই পরিস্থিতি শারদ পাওয়ারের এমন মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কর স্বর্গ (ট্যাক্স হ্যাভেন) ব্যবহারের পাশাপাশি শেয়ারের দাম বাড়াতে নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে আদানির কোম্পানি। বাজারে শেয়ারের দামের মূল্যায়ন বেশি করে দেখানো হয়েছে। যদিও বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করে আসছে আদানি গ্রুপ। বরং তারা বলছে, আদানি গ্রুপের আর্থিক ক্ষতিসাধনে এ ধরনের বানোয়াট প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

এনডিটিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শারদ পাওয়ার সেই সুরেই বলেন, ‘দেশের একটি শিল্পগ্রুপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট হয়েছে, এটাই দেখা যাচ্ছে। তারা যদি কোনো ভুল করে, তবে তো সেটার তদন্ত হওয়া উচিত।’

এনসিপির রাজনৈতিক মিত্র কংগ্রেস হিন্ডেনবার্গের প্রতিবেদনের অভিযোগ তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) তদন্ত চাইলেও এ দাবিতে একমত নন শারদ।

অভিযোগ তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্ট একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, একজন বিশেষজ্ঞ, একজন প্রশাসক, একজন অর্থনীতিবিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দিয়েছে। তাদের সময় ও গাইডলাইন দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি টেনে শারদ পাওয়ার বলেন, ‘বিরোধীরা সংসদীয় কমিটি চাইছে। …সুপ্রিম কোর্টকে কেউ প্রভাবিত করতে পারে না, তাদের নির্দেশে পরিচালিত তদন্তেই সত্য উন্মোচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। সুতরাং সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত শুরুর পর জেপিসি তদন্তের কোনো গুরুত্ব নেই। এটার প্রয়োজনও নেই।’

এনসিপি প্রধান বলেন, একসময় সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে টাটা-বিড়লার নাম বলা হতো, অথচ তাতে সামনে চলে আসতো টাটা-বিড়লাই। একসময় মনে হলো আমরা সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে টাটা-বিড়লাকে কেন টেনে আনি, যাদের দেশের প্রতি অনবদ্য অবদান আছে। তবু কেউ কেউ টাটা-বিড়লাকেই টার্গেট করতো। সেই জায়গায় এখন নতুন নাম এসেছে। আপনি যদি সরকারের সমালোচনা করতে চান, নাম নিচ্ছেন আম্বানি-আদানির। কেউ যদি ভুল করে অবশ্যই তার সমালোচনা করা যাবে, কিন্তু অনর্থকভাবে কাউকে আক্রমণ করার বিষয়টি আমার বুঝে আসে না।

এসময় পেট্রোকেমিক্যাল খাতে আম্বানি এবং বিদ্যুৎ খাতে আদানি গ্রুপের অবদানের কথা তুলে ধরেন শারদ পাওয়ার। তিনি বলেন, এগুলো কি দেশের দরকার নেই? তারা তো দেশের কথা ভেবেই এসব দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এমন অবকাঠামো বানিয়েছেন। তারা অন্যায় করলে সমালোচনা করুন, কিন্তু যারা এত বড় বড় পরিকাঠামো বানিয়েছেন, তাদের কেন এভাবে বলবেন?

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x