বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ মে, ২০২৩

নিউজটি শেয়ার করুন

বর্তমার সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। রবিবার দুপুরে মালিবাগ রেল গেইটের সামনে পদযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এই কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা আন্দোলন শুরু করেছি, আমরা আন্দোলন থামাচ্ছি না। আমরা লড়াই শেষ পর্যন্ত করব।” ‘‘ যতদিন পর্যন্ত সরকারের পতন না হবে, যতদিন পর্যন্ত আমাদের যে দাবি … এই নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সংবিধান পরিবর্তন করে জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারবো ততদিন পর্য্ন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহতগতিতে চলবে।”

মান্না বলেন, ‘‘ আমরা অন্য কারো সাথে হাত মিলিয়ে, আপোষ করে, করমর্দন করে, কারো সঙ্গে বিভিন্নভাবে চুক্তি করে, রাতের বেলা দেখা করে কোনো রকম সমঝোতা করবার চেষ্টা করছি না। আমরা এই (সরকার পতন) লড়াই চালিয়ে যাব এবং বিশ্বাস করি এই লড়াইয়ে আমরা জিতব।” সকাল সাড়ে ১১টায় মালিবাগ রেলগেইটে কাছে গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে ‘সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বতীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরসহ ১৪ দফা দাবি’তে পদযাত্রাপূর্ব এই সমাবেশ হয়। সমাবেশের পর পদযাত্রাটি মালিবাগ রেলগেইট থেকে বাড্ডা অভিমুখে পদযাত্রা করে। এর আগে গত ২৩ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিনে পদযাত্রা করে তারা।

‘দিনাজপুর অভিমুখে রোড মার্চ ৪ জুন’

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘‘ আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে থাকবো। এই সরকারকে পদত্যাগ বাধ্য করে বাংলাদেশকে রক্ষা করব, জনগনকে রক্ষা করব, বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে রক্ষা করব।”

‘‘আমরা বলেছি, দেশব্যাপী গণতন্ত্র মঞ্চের লড়াই চলবে। আগামী ৪ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত এই সরকারের পদত্যাগ, অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবার জন্যে আমরা ঢাকা থেকে দিনাজপুর অভিমুখী রোড মার্চ করব। ৪ তারিখ জাতীয় প্রেসক্লা্বের সামনে থেকে এই রোড মার্চ শুরু হবে।”

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা ধারাবাহিকভাবে কোরবানি ঈদের আগেই আন্দোলনটাকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করবার জন্যে আরো নতুন কর্মসূচি আমরা ঘোষণা করব।”

‘দিনে দিনে দেনা বাড়িয়াছে ঋণ’

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা নীতির প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘‘ এই সরকার গোটা দেশের রাষ্ট্র যন্ত্রকে নিজের কবজায় নিয়ে ব্যবহার করেছে। যখন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এখন এসব অপকর্ম যারা করবে তাদের ভিসা দেয়া হবে না ….। তলে তলে কাজ শুরু হয়ে গেছে। স্পষ্ট করে বলি, এগুলো চলবে। চলবে এই কারণে যে দুনিয়ার বুকে বাংলাদেশের মান-সন্মান এই সরকার শেষ করে দিয়েছে।”

‘‘ আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। বহু বছর ধরে বলেছি, এভাবে ভোট চুরি করে, জালিয়াতি করে, শঠতা করে, মানুষের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতায় থেকে ডান্ডা দিয়ে, অত্যাচার-গুম-খুন করে ক্ষমতায় থাকা দীর্ঘদিন সম্ভব নয়। অতএব দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা সুদিতে হবে। এখন সেই সময় আসছে। এখন আপনাকে যেতে হবে।”

সাইফুল হক বলেন, ‘‘ এই সরকারের ঝারি-জুড়ি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আর বিশ্বাস করে না। এই সরকার যে আরেকটা ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পায়তারা করছে। সাত মাস আগেই এটা বুঝতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে।”

‘‘এথেকে বুঝা যায় এই সরকারকে দুনিয়ার কেউ বিশ্বাস করছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে বলেছে, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন নিয়ে যদি নয়-ছয় করা হয় সেখানে জিএসপি সুবিধা বন্ধসহ আরো অনেক ব্যবস্থা তারা গ্রহন করতে যাচ্ছে। সরকারের অবস্থা কি? খেয়াল করেছেন.. বুকের কষ্ট তারা চাপা রেখে মুখে তাদেরকে কৃত্রিম সন্তুষ্টি নিয়ে হাজির হতে হচ্ছে। খুবই মন খারাপ অথচ তাদের মুখে হাসি হাসি ভাব করে বলতে হচ্ছে, এই ভিসা নীতি নাকী বিরোধী দলের জন্য করা হয়েছে। এইসব বলে বাংলাদেশের জনগনকে বোকা বানানো যাবে না।”

‘যুক্তরাষ্ট্রের বিধি-নিষেধ সরকারের কারণেই’

জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, ‘‘ আজকে আমেরিকার যে বিধি-নিষেধটা এসেছে আপনার-আমার সকলের উপরে। আমেরিকা বিধি নিষেধ করবে এটাতে বাহাবা দেওয়ার কিছু নেই, আপনার-আমার হাসি হাসারও কিছু নেই…এটা অত্যন্ত দূঃখের। কিন্তু কেনো হলো? কেনো এই জায়গায় আমাদেরকে নামানো হলো?”

‘‘ কারা এটার দায়ী? যারা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলো জনগনের ন্যুনতম অধিকারটুকু দেয়নি, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, দিনের ভোট রাতে করেছে, নিজেরা নিজেরা ভোট করে সেটাকে সুষ্ঠু ভোট বলা হচ্ছে। গাজীপুরে যে ভোটটা হয়েছে সেটা কি হয়েছে? আবার তারাই বলে আমরাই তো। তো আমরাই যদি হবে তাহলে গতকাল একটা তদন্ত কমিটি হয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি হয়েছে যে, গাজীপুরে নৌকা কেনো ফেল করলো সেটা বের করার জন্য। জনগন সবটাই বুঝে।”

এই সরকার পরিবর্তনে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’ এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানান জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রবের সহধর্মিনী।

‘ওরা জনগনকে বোকা ভাবেন’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘‘ আওয়ামী লীগের নেতারা কতটা বাংলাদেশের মানুষকে বোকা ভাবেন। খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের নেতা একজন সিনিয়র নেতা তিনি বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই যে ভিসানীতি এটাতে নাকী বিএনপি বেকাদায় আছেন। আচ্ছা বলেন তো…. দেশে ভোট চুরি করে সরকার, দেশে সভা-সমাবেশ করতে দেয় না সরকার, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে এসব অপকর্ম করায় কে – সরকার, আজকে তাদের(আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) নামে বদনাম হচ্ছে দুনিয়ায়, তাদের ওপর স্যাংশন আরোপ হচ্ছে….।

‘‘ আর ভিসা নীতি নাকী বিরোধী দলের জন্য। এটা বলা একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাদের পক্ষেই সম্ভব। নির্বাচন সুষ্ঠু করা তো জনগনের দাবি, জনগন সুষ্ঠু নির্বাচনকে বন্ধ করতে যাবে না। দেশের মানুষ জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের পরিণতি কি দাঁড়াবে? আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনে ভেসে যাবে। কাজেই বিরোধী দলের সুষ্ঠু নির্বাচনে বাঁধা দেয়া, বানচাল করার, ক্ষতিগ্রস্থ করার কোনো প্রয়োজন নেই।”

তিনি বলেন, ‘‘ জনগন-বিরোধী দল সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।নির্বাচন বানচাল করতে চায়, নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, ওই তাদের জোটের নেতার(রাশেদ খান মেনন) ভাষায় পরিকল্পিত নির্বাচন মানে নিজেরা ২‘শ আসন পকেটে রেখে বাকি আসনগুলো বিভিন্‌ দলের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে দেন। উনার ভাগ-বাটোয়ারা করনেওয়ালা লোক, উনারা দেশের জমিদার, দেশের মালিক, উনার বিভিন্নজনকে ভিক্ষা দেবে।বাংলাদেশের মানুষ এটা আর সহ্য করবে না।বাংলাদেশের মানুষ এটা আর গ্রহন করবে না।সেই প্রত্যাখানের আওয়াজ উঠছে। জনগনের মধ্যে জাগরণ উঠছে এবং সেই জাগরণের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটবে।”

‘‘ আমরা পরিস্কার করে বলেছি, বাংলাদেশকে যদি এগুতে হয়, আমাদের একটা অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধিনে যেমন নির্বাচন লাগবে। তেমন এই রাষ্ট্র ক্ষমতা এবং এই বিদ্যমান রাজণৈতিক বদোবস্ত ওই শাসন ক্ষমতা এটাকে আর রাখলে চলবে না। এটা বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দেবে। কাজেই সংবিধানের ক্ষমতাকে ঢেলে সংবিধান সংস্কার করে আমাদেরকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়ে যেতে হবে।এটাই বাংলাদেশের মানুষের এখন প্রধান কর্মসূচি।’’

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশে বাংলাদেশ ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমও বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সরকার পদত্যাগের ১০ দফা দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য সমাবেশ এবং বাংলাদেশের লেবার পার্টি পদযাত্রা করে।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x