শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৫টি মামলা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে জানিয়েছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মানি লন্ডারিং আইন অর্থপাচার প্রতিরোধে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৫টি মামলা হয়েছে। যার সাথে জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ৩৬৭ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন আওয়ামী লীগের সদস্য মোরশেদ আলম। লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, বিদেশে অর্থ পাচার ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধকল্পে বর্তমানে দেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ কার্যকর রয়েছে, যা প্রয়োজনের নিরিখে ২০১৫ সালে আংশিক সংশোধন করা হয়। ২০১৫ সালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফিন্যানসিয়া ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশের সিআইডি বিভাগ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অর্থ পাচার প্রতিরোধে কাজ করে থাকে। এর মধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচার সংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিং মামলাসমূহের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজ বোর্ডের অধীনস্থ দপ্তরসমূহ কর্তৃক অনুসন্ধান ক্রমে মামলা ও তদন্ত পরিচালনা করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মশিউর রহমান রাঙার প্রশ্নের লিখিত উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের নয়টি ব্যাংক গত বছর ৪ হাজার ৬২১ জন গ্রাহকের অনুকূলে ৮ হাজার ৪০৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার সুদ মওকুফ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৬২০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার সুদ মওকুফ সুবিধা কার্যকর হয়েছে। তিনি আরো জানান, তফসিলি ব্যাংকের মূলঋণ (আসল) মওকুফ করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬টি ব্যাংক (অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ ডেডেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড, বেসিক ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ও সোনালী ব্যাংক) এবং তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক (বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাপ ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক) রয়েছে।

জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ দুই হাজার ৭৬৫ মার্কিন ডলার। যা ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৬৮৬ মার্কিন ডলার। সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করা। সে লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছর ৬ জুন পর্যন্ত দেশে করদাতার সংখ্যা ৮৯ লক্ষ। বর্তমানে দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতার সংখ্যা ৮৯ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৩৬ জন। ব্যক্তি করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য নিম্ন বর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পদক্ষেপগুলো হলো- জরিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন করদাতা সনাক্তকরণ, এক পাতার রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি সহজীকরণ, অনলাইন ই-রিটার্ন দাখিল, আয়কর প্রদান সহজীকরণ, এবং করদাতাগণকে সম্মাননা প্রদান। এর ফলে উত্তরোত্তর ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতাগণ কর প্রদানে আগ্রহী হচ্ছে এবং করদাতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x