শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

বাণিজ্যিক উৎপাদনে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারায় অবস্থিত ১৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট সফলভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট (৬৬০ মেগাওয়াট) পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রমে নিয়োজিত হয়। এর আগে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর কর্মকর্তারা পাওয়ার প্ল্যান্টটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াট এর মোট দুইটি ইউনিট রয়েছে। যেটির প্রথম ইউনিট থেকে বিগত ২৪ মে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছিল ২৮ জুন তারিখে। এবার পুরোপুরি বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেল দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ এবং চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচটিজি এর মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার এর একটি ইউনিট ।

এ প্রসঙ্গে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ইবাদত হোসেন ভূঁইয়া, এফ সি এ বলেন, “আজ আমাদের দেশের মানুষের জন্য খুবই খুশির একটি দিন। পিডিবি ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আমরা ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে সফলভাবে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পেরেছি এবং সে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এই পাওয়ার প্ল্যান্টটির বাণিজ্যিক উৎপাদন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বাঁশখালীর এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশি-বিদেশি অর্থায়নে দেশের প্রথম বৃহৎ বেসরকারি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প। ২.৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থ্যাৎ ২৮ হাজার কোটিরও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই পাওয়ার প্ল্যান্টটি বেসরকারি একক বিনিয়োগ হিসেবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এছাড়া, বেসরকারি প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগেও রেকর্ড করেছে এস আলম গ্রুপ। প্রকল্পটিতে শীর্ষস্থানীয় দেশীয় কোম্পানি এস. আলমের অংশীদারিত্বের পরিমাণ ৭০ শতাংশ এবং বাকি ৩০ শতাংশের মালিকানায় রয়েছে চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচটিজি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি চালুর ফলে স্থানীয় শিল্পকারখানার প্রসার, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উন্নতির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায়ও নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। অন্যান্য পাওয়ার প্ল্যান্টের তুলনায় এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে সাশ্রয়ে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এটি পুরোপুরি উৎপাদনে থাকলে দৈনিক প্রায় ২.৯৩ কোটি ইউনিট ও মাসে প্রায় ৮৮ কোটি ইউনিটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

প্রসঙ্গত, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও এসএস পাওয়ারের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর ২০১৬ সালে এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ যৌথভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। এরপর কার্যক্রম শুরুর পর অন্যান্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের তুলনায় খুব দ্রুতই সফলভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসেছে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x