শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়! অতিরিক্তি ওষুধ ক্ষতির কারণ

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৩০

নিউজটি শেয়ার করুন

সামান্য জ্বর হলেই অথবা একটু খারাপ লাগলেই যেকোন ওষুৃধ অথবা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস অনেকের। এই অভ্যাস যে কতটা ক্ষতিকর সে বিষয়ে ডাক্তাররা বার বার সতর্ক করা হলেও অনেক ওষুধ খাবার ঝোক কমে না।

জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতার বিষয়ে ডাক্তাররা মনে করেন, এর কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। সামান্য সমস্যায় ওষুধ খাবার কারণে বেশি সমস্যায় স্বাভাবিক ওষুধে কাজ হয় না। বরং কোনো কোনো জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর ওষুধ খাওয়া রোগিরা মনে করে করেন, তাতে দ্রুত সুস্থ হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

চলুন জেনে আসি আমরাও—–

 

অ্যান্টিবায়োটিক কখন খাবেন–

এটা সবার মনে রাখা উচিত যে কভিড-১৯, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ইত্যাদি হলো ভাইরাসজনিত জ্বর, যাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। অর্থাৎ এসব অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না; এসব জ্বর এমনিতেই সেরে যায়। শুধু লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়।

তবে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণজনিত কারণে জ্বর হলে সে ক্ষেত্রে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক দরকার হয়। টাইফয়েড, নিউমোনিয়া বা শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ, প্রস্রাবে প্রদাহ, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণজনিত রোগ। এসবের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।

জরুরি পরামর্শ, মনে রাখুন–

♦ জ্বর হলে প্রথম তিন দিন পর্যন্ত প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ পানি পান, ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার খাওয়া, প্রচুর বিশ্রাম নিতে হয়। এগুলোতে বেশির ভাগ জ্বর সেরে যায়। তবে জ্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত মাথা ব্যথা, কাশি ও কফ বের হওয়ার পাশাপাশি কফের সঙ্গে রক্ত গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

♦ সাধারণত রক্ত, প্রস্রাব, কফ, পুঁজ ইত্যাদি স্যাম্পল থেকে কালচার সেন্সেটিভিটি পরীক্ষা করে জ্বরের কারণ নির্ণয় করা যায়। পরীক্ষায় ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন শনাক্ত হলে চিকিৎসক সংশ্লিষ্ট গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। তাই অ্যান্টিবায়োটিক যদি খেতেই হয়, সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শে খাবেন, ফার্মেসি থেকে নিয়ে বা নিজের সিদ্ধান্তে খাবেন না।

♦ রোগ চিহ্নিত হওয়ার পর চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দেন। কিন্তু জ্বর কমে গেছে বা ভালো হয়ে গেছে মনে করে অনেকে কয়েক দিন অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে বন্ধ করে দেয়। এটা কিন্তু মোটেই ঠিক নয়। অ্যান্টিবায়োটিকের ফুল কোর্স শেষ করা উচিত। নচেৎ পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলেও ওই গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, যাকে বলে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্ট।

♦ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা যাবে না।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: