সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন

প্রকৃতিকে সেবা দিন, প্রকৃতি সেবা দিবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জুন, ২০২৩
  • ৭৩

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবেশকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের লক্ষ্য হবে আগে পরিবেশ পরে উন্নয়ন। আমাদের উপকারী গাছ চিনতে হবে, প্রকৃতির প্রতি আমাদের সদয় হতে হবে, প্রকৃতিকে সেবা দিন, প্রকৃতি আপনাদেরকে সেবা দিবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৩ উপলক্ষ্যে আজ ৯ জুন (শুক্রবার) সকাল ১০ টায় পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ওয়েস আয়োজিত গ্রীণ ফেয়ার এবং ‍”জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ সংরক্ষণ ও টেকসই নগর পরিকল্পনা” প্রতিপাদ্যের উপর উত্তরা সেক্টর ১৫ এ অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আয়োজনে সহ আয়োজক হিসেবে ছিলো আরবান প্ল্যানি স্টুডিও।

সভায় বলা হয়, পরিবেশ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনা বৃদ্ধি, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে পরিবেশ বান্ধব পণ্যের প্রচার ও প্রসার, রিইউজের মাধ্যমে পণ্যের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপন ও সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য প্রদান এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই নগর নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে ওয়েস এর উপদেষ্টা ফারজানা রহমান বলেন, গ্রীণ ফেয়ারের মাধ্যমে থ্রীআর (রিসাইকেল, রিইউজ এবং রিডিউজ) কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও স্কুল পর্যায়ে মেলা, গ্যারেজ ফেয়ার, এবং যুব পর্যবেক্ষকদের কে প্রমোট করার মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই ওয়েস এর মূল লক্ষ্য।

উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এর প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান।

আদিল মুহাম্মদ খান প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্য ব্যবহার এর উপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে জীববৈচিত্র্য দৃশ্যমান হয়েছে এবং শিশুদের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্যের কাছাকাছি আনার প্রয়াসে আমাদেরকে পরিকল্পনায় প্রকৃতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রাণ প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্যকে রক্ষায় আমাদেরকে বৃক্ষ সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে এবং পরিবেশকে প্রাধ্যান্য দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, কৃষিজমি এবং বনভূমির ক্ষতি না করে নগর পরিকল্পনায় বিল্ডআপ এনভায়রনমেন্ট এবং সবুজায়নকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। লেক সংরক্ষণ, গাছ সংরক্ষণ, প্রাণ প্রকৃতিকে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রনয়ণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, নগর পরিকল্পনায় সকল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মূল লক্ষ্য হলো পার্ক এবং সবুজায়ন নিশ্চিত করা। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় জলাধার, গণপরিসর এবং সবুজায়ন তৈরি করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে, একই সাথে এসকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকাকে শিশু বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর চিফ টাউন প্ল্যানার মাকসুদ হাসেম বলেন, কৃষি জমি, জলাধার, পতিতজমি, সবুজায়ন, পার্ক এবং গণপরিসর সংরক্ষণ করতে হবে। সবুজ উন্নয়ন বাস্তবায়নে জন্য আমাদের কাজ করতে হবে এবং পুরোনো গাছপালাগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, আমরা স্বপ্ন দেখি বাঁচার আশায়, ভালভাবে থাকার আশায়। আমাদের বেঁচে থাকতে হবে নতুন উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে, আমাদের শক্তি আমাদের মানুষজন, নতুন জেনারেশন নিজেদের পক্ষ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রেই পরিবেশকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়, আমাদের লক্ষ্য হবে আগে পরিবেশ পরে উন্নয়ন। আমাদের উপকারী গাছ চিনতে হবে, প্রকৃতির প্রতি আমাদের সদয় হতে হবে, প্রকৃতিকে আপনি সেবা দিন, প্রকৃতি আপনাকে সেবা দিবে।

এছাড়াও গ্রিন ফেয়ারে বাংলাদেশের স্বনামধন্য ১২ জন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রীর ১২ টি ছবি প্রদর্শন করা হয়। এই ছবির প্রদর্শনীর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে সবার কাছে তুলে ধরা হয়। ‌ পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে পরিবেশ বান্ধব সামগ্রী নিয়ে কাজ করে এমন দশটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। ওয়েস এর ব্যবস্থপনা পরিচালক হোসনে আরা আলো এবং পরিচালক লিসান আসিব খান পরিবেশ দিবস আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সকলকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: