সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন

দেশে বিরাজমান বৈষম্যগুলোকে চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে : শিরীন হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১১০

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাত্র-গণাভ্যুত্থানের মাধ্যমে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সফলতায় সংস্কারের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে বিরাজমান বৈষম্যগুলোকে চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে। দেশের সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে কাজ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হবে, সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্যের নিরসন। নারী-পুরুষের জেন্ডার বৈষম্য কমাতে কাজ করতে হবে। নারীর উন্নয়ন বিকাশে বাধাগুলো নিয়ে চিহ্নিত করতে হবে। অন্য সকল সংস্কার কমিশনে নারী অধিকারের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে হবে। এটা আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি। ক্রান্তিকালে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার সর্বোত্তম সুযোগ।

অনুষ্ঠানে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (প্রকল্প-২) আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, নারী অধিকারের বিসয়টি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। তারপরও জনসংখ্যার বিচারে নারীরা সমান সমান হওয়া সত্ত্বেও নারী বহুক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। এই জায়গাগুলো নিরুপন করে নারী উন্নয়নে কাজ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও দায়বদ্ধতা থেকে সরকারকে আরো গুরুত্বারোপ করতে হবে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) মো. মনির হোসেন বলেন, নারী উন্নয়নে সরকারের যেসব আইন-কানুন রয়েছে তা আপডেট করার কার্যক্রম চলছে। একেবারে প্রান্তিক পর্যায় থেকে আমাদের কাজ করতে হবে। সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে হয়ে দেশগঠনে কাজ করে যাবো।
ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর জেন্ডার টিম লিডার শারমিন ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের তুলনায় আমাদের নারীদের উন্নয়নের চিত্র ভিন্ন। আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এক্ষেত্রে সরকারের নীতি-নির্ধারণ জায়গায় বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে যে নারী উন্নয়নের প্রাধান্য দিতে হবে।

একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সমাজে যৌন হয়রানি, সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে বন্ধ এবং জলবায়ু, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও সবুজায়ন এবং ক্রীড়াঙ্গনে নারী নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিন ক্যাটাগরিতে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের তিনজনকে ‘নাসরীন স্মৃতিপদক ২০২৫’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এবছর পদক গ্রহণ করেন যথাক্রমে ডনাইপ্রু নেলী, রিনা খাতুন এবং আফরোজা খন্দকার।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির চেয়ারপার্সন ইব্রাহিম খলিল আল জায়াদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য মেঘনা গুহঠাকুরতা, দেশ গ্রোথ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিদিয়া অম্রিত খান, জেষ্ঠ্য সাংবাদিক সোহরাব হাসান, মাঝামাঝি-এর প্রতিষ্ঠাতা জারিন জেবা খান প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে নারীর ক্ষমতায়নে সামগ্রিক চিত্রের অগ্রগতি হলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়। এখনো অনেক পিছিয়ে আছেন নারীরা। ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে বিভিন্ন স্তরের নারীদের মুখোমুখি হওয়া কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণকে উৎসাহিত করাসহ নারী ও কন্যাশিশুরা সমান সুযোগ পায় এবং উন্নতি করতে পারে সেলক্ষ্যে সকল ক্ষেত্রে পদক্ষেপের গতি বাড়াতে হবে।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: