সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন

তিন দিনব্যাপী ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট’ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৭৮

নিউজটি শেয়ার করুন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে এই প্রথম ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৫’ শুরু হয়েছে। একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট এবং জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (পজটনেট-বিডি) আয়োজিত তিনদিনব্যাপী এই উৎসব আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। উৎসবের প্রথম দিনে ‘ফান্ড আওয়ার ফিউচার’ বৈশ্বিক প্রচারণা কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে বিশেষ র‌্যালি ও ফ্ল্যাশ মবের আয়োজন করা হয়।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন টিমের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, উৎসবের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের কার্যক্রম বুয়েট ইসিই ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ‘উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলা’ এবং ‘ইয়ুথ হাব’ উদ্ভাবন মেলায় দেশীয় উদ্ভাবকদের নবায়ণযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ধারণা প্রদর্শন করা হবে। প্রযুক্তি মেলায় করপোরেট খাতের প্রতিষ্ঠিত নবায়ণযোগ্য জ্বালানি পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হবে। ইয়ুথ হাবে তরুণরা ডায়ালগ, কর্মশালা ও কুইজের মাধ্যমে তাদের ভাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা সবার সামনে তুলে ধরবেন এবং জলবায়ু আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উৎসবের দুই দিনে মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পলিসি ডায়ালগ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই সেশনগুলোতে নবায়ণযোগ্য জ্বালানির সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব, নীতি ও সুশাসন, অর্থায়ন ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি, নারীর অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের জন্য তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নিবেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। এসব আলোচনা থেকে উঠে আসা সুপারিশগুলো নীতি নির্ধারকদের কাছে সুপারিশ পেশ করা হবে। উৎসবের শেষ দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

এদিকে তারুণ্যের ফ্ল্যাশ মব ও শোভযাত্রার মধ্য দিয়ে এই উৎসব শুরু হয়েছে। ‘ফান্ড আওয়ার ফিউচার’ বৈশ্বিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে ফ্ল্যাশ মব ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। যুব সংঘের ২০ জন সদস্য ফ্ল্যাশ মবে অংশ নেন। পরে দোয়েল চত্বর থেকে হাই কোর্ট ঘুরে প্রেসক্লাব পর্যন্ত হয় শোভাযাত্রা। ‘আমাদের দূষণ নয় সবুজ শক্তির প্রয়োজন’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, ক্লাইমেট জাস্টিস’ সহ নানা পরিবেশবান্ধব স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে শোভযাত্রায় অংশ নেন তরুণরা। এসময় জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ডাক দেওয়া হয়।

এ সময় টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান ফারাহ্ কবির। তিনি বলেন, এই ফ্ল্যাশ মব ও র‌্যালি প্রমাণ করে যে আমাদের যুব সমাজ একটি ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ চায়। জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণ থেকে মুক্তি এবং নবায়ণযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সবুজ বাংলাদেশ নির্মাণে সবাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই উৎসব সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অধ্যাপক ড. এম. এ. এ. শওকত চৌধুরী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। এই উৎসবে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা এবং বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান সমন্বিত হয়ে একটি টেকসই জ্বালানি নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে। বুয়েট এই প্রচেষ্টার অংশ হতে পেরে গর্বিত, এবং আমরা আশা করি, এই উৎসব দেশের জ্বালানি খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: