মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

গুলিস্তানের নতুন চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগের স্বপন!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩ অগাস্ট, ২০২৫
  • ২৪৫

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিক নৌকা মনোনয়ন পেয়ে টানা দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এ সুবাদে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে উঠে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাগামছাড়া হয়ে উঠেন তিনি। নিজ ইউনিয়নে হয়ে উঠেন মাদক সম্রাট। তৈরি করেন কিশোর গ্যাং-সন্ত্রাস বাহিনী।

ওই চেয়ারম্যানের নাম হান্নান ভূঁইয়া স্বপন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পালিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছেন স্বপন। এখন সখ্য গড়ে তুলেছেন বিএনপির বিতর্কীত কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে। এ সুযোগে গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, ফুলবাড়িয়ার মার্কেটগুলোতে প্রকাশ্যে করছেন চাঁদাবাজি। তাঁর হাত থেকে ফুটপাতের হকারও রেহাই পাচ্ছে না। আবার ভয়ে কেউ তাঁর চাঁদাবাজির প্রতিবাদও করছে না।

অথচ ওই হান্নান ভূঁইয়া স্বপনের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় হত্যাসহ বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তবুও সে আখাউড়া থানা ম্যানেজ করে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই মাদকসম্রাট,ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারের সহযোগী হান্নান ভূঁইয়া স্বপন ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা।

এদিকে গত ১ আগস্ট যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে ভারতে প্রবেশ করতে না দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফেরত পাঠিয়েছে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ। তিনি হান্নান ভূঁইয়া স্বপনের আপন ভাই। তার আরও দুইভাইও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখন তারা আত্মগোপনে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৮ পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী সরকার জয়লাভ গ্রহণের পর যখন প্রথম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করে তখন তৎকালীন সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট হান্নান ভূঁইয়া স্বপন কিছু আন্ডারগ্রাউন্ডের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাথে যোগ সাজশের মাধ্যমে এবং তার নিজ এলাকা ৪ নম্বর উত্তর আখাউড়া ইউনিয়নের অর্থলোভী গ্রাম্য নেতাদের ম্যানেজ করে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তার আপন চাচা তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মৃত্যুবরণ করেন। তারপর সেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আসনটি ছিনিয়ে নেয় এবং এর জন্য ভোট কারচুপি ও বিরোধী দলকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোণঠাসা করে রাখে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে।

প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তী পাঁচ বছরে সে তার তিন ভাইকে সাথে নিয়ে ও আরও আত্মীয়-স্বজনদেরকে নিয়ে একটি শক্ত ভয়ংকর গ্রুপ তৈরি করেন, যাদের কাজ ছিল সরকারি অনুদান নিজেরা ভোগ করা যার আসল হকদার এলাকার দুস্থ ও গরিব মানুষজন, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ এনে তা নিজেদের মধ্যে বন্টন করে উন্নয়ন ব্যাহত করা এবং বিরোধী দলের সমর্থকদের সার্বক্ষণিক মামলা হামলা করে দূরে দূরে রাখা।

স্বপন চেয়ারম্যানের মামা আবুল কাশেম ভূঁইয়া তৎকালীন আওয়ামী লীগের আখাউড়া উপজেলা পরিষদের একজন কার্যকরী নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে সে উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত হন। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের খুব আস্থাভাজন ছিলেন এই মামা ও ভাগিনা। স্বপনের নির্দেশে এলাকায় গড়ে উঠেছিল মাদকের এক বিশাল ঘাঁটি যা বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যা নিউজ চ্যানেলের কাছে আছে এবং সেই নিউজগুলো যেন বেশি দূর পর্যন্ত ছড়াতে না পারে সেখানেও তার হস্তক্ষেপ ছিল।

সাংবাদিকদের ভয়-ভীতি দেখানোর কাজটা করতো তার ঢাকার সন্ত্রাসী গ্রুপ এবং তার সর্বকনিষ্ঠ ছোট ভাই। তার মেজ ভাই আবুল কালাম আজাদ ঢাকার শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সক্রিয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আর সেজো ভাই তাদের বিভিন্নভাবে আর্থিক ও আনুষাঙ্গিক সহযোগিতা করে যেত। তারা সবাই বঙ্গ বাজার ও এনেক্সো টাওয়ার মার্কেটের অনেক পুরনো চোরাকারবারি হিসেবে পরিচিত। ভারত থেকে চোরাই পথে শাড়ি-থ্রি পিস আনার একটি বড় সিন্ডিকেটের সদস্য তারা চার ভাই। সেই সিন্ডিকেটের প্রধান হান্নান ভুইয়া স্বপন ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার মোসাদ্দেক আলী। শুধু তার হস্তক্ষেপ সরকারি অনুদানের খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই সে এবং তার ভাইয়েরা এলাকার এবং এলাকার বাইরের বিভিন্ন নারীদেরকে উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্ররোচনায় ফাঁসিয়ে আর্থিকভাবে নারীদের ইজ্জতের শ্লীলতাহানি করতো।

এর কারণে তার সেজো ভাই আবুল হাসনাত ভূঁইয়া জেল পর্যন্ত খেটেছেন। তাদের প্রত্যেকটা ভাইয়ের নারীদের প্রতি আসক্তি খুব তুঙ্গে যা তাদের বর্তমান এবং অতীতের রেকর্ড খোঁজ করলেই যে কেউই জানতে পারবে। বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হুমকি দেওয়া এসব কর্মকাণ্ড হান্নান ভূঁইয়া স্বপনের নিত্যদিনের ব্যাপার। শুধু এগুলো তার নির্বাচনী এলাকা ৪ নম্বর উত্তর আখাউড়া ইউনিয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা ঢাকা শহরের মধ্যেও খুব ভালোভাবেই চলছে সেই সন্ত্রাসীদের সহায়তায়। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারী সরকারের পতন হওয়ার পর যখন আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে জীবন বাঁচাচ্ছেন, সেখানে হান্নান ভুইয়া স্বপনের ছোট ভাইকে বিএনপির একটি অঙ্গ সংগঠনের নেতা বানিয়ে বীরের মত সব ভাইরা ঢাকা শহরের চাঁদাবাজির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে সে একটি দোকান পরিচালনা করছে বঙ্গবাজার সংলগ্ন এনেক্সো টাওয়ার এর চতুর্থ তলায়। সেখানে সে তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নতুন টিম গঠন করেছে। সেটার প্রধান নেতৃত্ব দিচ্ছে সেই মার্কেটের ডিএমডি ও বিতর্কীত বিএনপি নেতা আবদুল বাসেত মাস্টার এবং স্বপনের অন্যান্য সহযোগীরা হচ্ছে মো. মিজানুর রহমান, হাজী নান্নু মিয়া, আব্দুল হাই, রমজান আলী ও বঙ্গবাজার মার্কেটের বহিষ্কৃত সাবেক ব্যবসায়ী ও ৫ আগস্ট এর আওয়ামী লীগের পক্ষে ছাত্র-জনতার ওপর সম্মুখভাগে হামলাকারী ও অগণিত হত্যা ও চাঁদাবাজি মামলার আসামি রিপন ফকির।

বর্তমানে স্বপন-বাসেত গ্যাং ওই মার্কেটের এবং গুলিস্তান এরিয়ার সাধারণ ব্যবসায়ী সহ যারা বিগত দিনে মার্কেট পরিচালনায় ছিল তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে মামলা করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। এর মধ্যে স্বপন এবং মিজানুর রহমান দুইজন আওয়ামী লীগের একজন কর্মী এবং ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে পরিচিত ছিল তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে। যারা এখন বিএনপির ছত্রছায়ায় সসম্মানে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে।

স্বপনের ভাই আবুল কালাম আজাদকে ভারতে যেতে দেয়নি পুলিশ: যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে ভারতে প্রবেশ করতে না দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফেরত পাঠিয়েছে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ। শুক্রবার (০১ আগস্ট) বিকেলে আবুল কালাম আজাদকে ফেরত পাঠিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তিনি বাংলাদেশী এ-১৫৫২৭৯৪৩ নম্বরের পাসপোর্ট ব্যবহার করে স্ত্রীসহ ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন। ইমিগ্রেশন সার্ভারে ‘তার পাসপোর্ট স্টপলিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত থাকায় ভারত গমনে অনুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: