সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

এনায়েতরা শ্রমিকদের পক্ষে বলতো না, শুধু বিএনপির কর্মসূচি ঠেকাতে গাড়ি বন্ধ করত: সাইফুল আলম

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৬ অগাস্ট, ২০২৫
  • ৭৬

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম বলেছেন, ‘অতীতের সব কিছু আপনারা জানেন। শাহজাহান, রাঙ্গা, এনায়েত কেউ শ্রমিকেদর জন্য কথা বলতো না। তারা শুধু বিএনপি কখন কর্মসূচি দিলে কয়েকদিন আগে সব গাড়ি বন্ধ করে দিত। এটাই ছিল তাদের কাজ।’ আজ শনিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-১৭৭৬)-এর ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৫ এ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ”শহর এবং শহরতলি শ্রমিক ভাইয়েরা যারা গাড়ি চালান, অনেক কষ্ট করেন। কিন্তু এর কোন স্বীকৃতি আমরা যাত্রী, জনগন, গণমাধ্যম এবং কি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও পাইনা। পরিবহন শ্রমিকরা যত আন্দোলন, সংগ্রাম দাবি তুলেছে সব যাত্রীদের এবং দেশের স্বার্থে, কিন্তু সরকারকে আমরা এটা বুঝাতে পারি না। সামনে সময়ে নেতৃত্বে যেই আসেন না কেন শ্রমিকদের ভালোমন্দে পাশে থাকতে হবে। আমরা মালিক হিসেবে শ্রমিকদের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালানো, মালিককে তার সম্পদ তথা গাড়িটি দেখে রাখা ছাড়া কিছু চাইনা। আমি মালিকদের পক্ষ থেকে কথা দিচ্ছি আপনাদের ঠকানো হবে না। আপনাদের যেকোন যৌক্তিক দাবিতে আমাদের পাশে পাবেন। আমরা বিশ্বাস করি আগামীতে জাতীয়তাবাদী সরকার দেশ গঠনে দায়িত্বপাবে। আমরা সব সময় সরকারকে সহায়তা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের একটা বিশেষ দূর্ণাম আছে। এই রাজধানীতে চলা গাড়িগুলোর উপর আমাদের সারাদেশের মালিক শ্রমিকদের ভাবমূতি নির্ভর করে। বিমানবন্দর থেকে নেমে একজন বিদেশী অথবা যেকোন লোক আমাদের গাড়ি চালানো, যাত্রী উঠানো নামানো, ট্রাফিক ব্যবস্থা দেখে তারা হতভম্ব হয়। তারা বলে এই জাতীটা এমন হইছে কেমনে।’

তিনি বলেন, ‘মালিকদের পক্ষে একটা কাজ গাড়িগুলো সুন্দর করতে হবে। সিট ভালো হতে হবে, এন্ডিকেটর থাকতে হবে, হেড লাইট থাকতে হবে, রঙ থাকতে হবে, দরজা জানালা সব ঠিক থাকতে হবে। আর চালকদের একটা শুধু কাজ নির্দিষ্ট যে জায়গা থাকবে সেখান থেকে যাত্রী উঠা-নামা করবে। অন্যকোন জায়গায় দাঁড়াবে না। এতে যদি যাত্রীরা মারধর করে আমরা দেখবো। এইকাজ আমরা পুলিশসহ করব। তাতে এক গাড়ির সাথে আরেক গাড়ি লাগবে না। কেউ বলতে পারবে না পারাপারি করে। দুই গাড়ির মাঝখানে পড়ে অনেক মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যা কাম্য নয়। আমরা কারো ক্ষতি করতে চাইনা।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আমি ঘোষণা দিতে চাই স্ব স্ব সড়কে ন্যয্য বেতন যা হবে তা সঠিকভাবে দেয়া হবে। বিগত সরকারের সময় নেতারা শ্রমিকদের কন্ট্রাক্ট দিয়ে বলছে তিন হাজার টাকা মালিক জমা। এতে করে পারাপারি বেড়ে যায়, গাড়ি নষ্ট হয় সব দূর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। পুলিশ মামলা দেয়। এসব করা যাবে না। আমরা শিমুল ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা সারাদেশ ব্যাপী দূর্ঘটনা এবং যানজট কমাবো। শুরুতে রাজধানীতে আমরা এই কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়কারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘শ্রমিক শ্রেণি মানব সভ্যতার বিকাশের নৈপথ্যের কারিগর। তারা পরিশ্রম, ঘাম ও রক্তের বিনিময়ে সভ্যতা বিনির্মাণের পাশাপাশি শিল্পকর্ম সেবা উন্নয়ন এমন দৈনন্দিন জনজীবন স্বাভাবিক রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তারা সবচেয়ে অবহেলিত। তাদের জীবনে কোন শান্তি নেই, নিরাপত্তা নেই। ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, পথে পথে সন্ত্রাস-ডাকাতি-ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে পরিবহন সেক্টর অতিষ্ট। এ সেক্টরে ৭৫ লাখ শ্রমিক এবং বড় বাণিজ্যিক বিনিয়োগ কিন্তু সবচেয়ে বড় বেশি বদনাম বহন করে চলতে হচ্ছে। সকল ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিহার করে পরিবহন সেক্টরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, রাষ্ট্র-সরকার ও সমাজে পরিবহন সেক্টরের শ্রমিকদের দুর্নাম ঘোচানোর জন্য গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে। নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি পরিহার করে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ এবং আত্মসমালোচনা গ্রহণ করে বাংলাদেশের শোষিত-বঞ্চিত সাত কোটি ৩৫ লাখ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য পরিবহন শ্রমিকদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সড়ক পথে সকল ধরনের বিশৃঙ্খলা-অরাজকতার বিরুদ্ধে পরিবহন সেক্টরের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবহন সেক্টরের নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যাত্রী পথচারী ও জনগণের যেকোনো অভিযোগ নিরসনের জন্য পরিবহন শ্রমিক নেতৃত্বকে কাজ করতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আউয়াল হোসেনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেমের সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আব্দুস সালাম, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলমসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন।

ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভায় ঢাকার বিভিন্ন রুট কমিটির শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দ ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: