
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া বাজারে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের তিন শ্রমিকের কাছে জোরপূর্বক পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তাদের কয়েক ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে হিলচিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পুষ্প প্লাজার দ্বিতীয় তলার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তিন শ্রমিক রাসেল আহমেদ, রায়হান চৌধুরী, সানি আলম দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় বাজিতপুর উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক কাউছার আহমেদ ও হিলচিয়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলার বালিগাঁয়ের আলম, পুড্ডা এলাকার বুরহানসহ আরও ১০-১২ জন সেখানে গিয়ে জোরপূর্বক ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে শ্রমিকরা অস্বীকৃতি জানালে তাদের দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের জোরপূর্বক হিলচিয়া বাজারস্থ কাউছারের সহযোগী সঞ্জিতের পরিচালিত ‘পপি স্টুডিওতে’ নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখা হয়। পরে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চাঁদা দেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, সাদ্দাম হোসেন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এসব কার্যক্রমের আদেশদাতা ও পৃষ্ঠপোষক কাউছার আহমেদ বলেও তাদের অভিযোগ। এমনকি সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, চুরি ও ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
জানতে চাইলে হিলচিয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নিয়াজ মামনুর রহমান পুটন বলেন, তারা সেখানে গিয়েছিল এটা সত্য। তবে কাউছারের বড় ভাই জানিয়েছে সেখানে কাজ চাইতে গিয়েছিল, তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি শ্রমিকরা জানিয়েছে।
চাঁদা দাবি করা ও আটকিয়ে রাখার বিষয়ে জানতে উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক কাউছার আহমেদ ও হিলচিয়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনকে একাধিবার কল দিলে তারা রিসিভ করেন নি। এদিকে বাজিতপুর থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।