
বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে ৭ মার্চ এক অবিস্মরণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ দিন। ভাবা হয় এই দিনটির কারনেই আমরা আমাদের দেশকে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। ভাষনটি ৫০ বছর আগের হলে আজও ভাষনটি আমাদের নতুন উদ্যমে কাজ করার অনুপ্রেরণা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে।
ভেবেই অবাক হই যে একজন নেতা সে কতটা প্রখর চিন্তা চেতনার হলে পুরো জাতিকে উজ্জীবিত, একত্রিত এবং একই সুতোয় গাথার মতন ক্ষমতা রাখেন।
১৯৪৭ এর দেশভাগের পরে ৭১ এর ৭মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানের ২৪ বছরে শোষন আর বঞ্চনা এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা এগুলোর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাব্যিক ভাষন দেন। তিনি উক্ত ভাষণ বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু করে বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে শেষ করেন। উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
এই ভাষণ তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে, প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে, এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে তিনি লাখো মানুষের সম্মুখে বলেছিলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এটাই ছিল বাঙালির ঐক্যের মূলমন্ত্র, স্বাধীনতার ঘোষণা। বঙ্গবন্ধু প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন- ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।’
তিনি ভাষণে কয়েকটি দিক নিয়ে আলোচনা করেন:
• সামগ্রিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা
• পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিকদের ভূমিকার ওপর আলোকপাত
• সামরিক আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো
• অত্যাচার ও সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য বাঙালিদের আহ্বান জানানো
• দাবী আদায় না-হওয়া পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে সার্বিক হরতাল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান
• নিগ্রহ ও আক্রমণ প্রতিরোধের আহ্বান এবং বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করা
এই ভাষন আমাদের নতুন প্রজন্মকে অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে কিভাবে প্রতিবাদী হতে হয় প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে ন্যায় কথা বলতে হয় সেটার সপ্ন ও শক্তি যোগায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও শেখ মুজিবকে ‘চতুর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন,
“ শেখ মুজিব কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গেলো, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারলাম না।
নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবরে ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে “ডকুমেন্টারি হেরিটেজ” (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই ভাষণটি সহ মোট ৭৭ টি গুরুত্বপূর্ণ নথিকে একইসাথে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইউনেস্কো পুরো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দলিলকে সংরক্ষিত করে থাকে। ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে (এমওডব্লিউ) ’ ৭ মার্চের ভাষণসহ এখন পর্যন্ত ৪২৭ টি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগৃহীত হয়েছে।
নুসরাত জাহান উর্মি, শিক্ষার্থী
অর্থনীতি-বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়