সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

হিজাব ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের দ্বারস্থ হবে ঢাবির নারী শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ জুন, ২০২৩
  • ১১৫

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ কতৃক পরীক্ষা, ভাইবা ও প্রেজেন্টেশনের সময় মুখমন্ডল খোলা রাখার নোটিশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু সমাধান না করলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের দ্বারস্থ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের একাংশ।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে হিজাব ইস্যুতে বাংলা বিভাগের নোটিশের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে উল্টো শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ করে উপাচার্যের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ ঘোষণা দেয় তারা৷

শিক্ষার্থীরা বলেন, মেধার স্বাক্ষর রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একজন হিজাব পরিহিতা শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এবং এটাকে উপলক্ষ্য করে তার একাডেমিক লাইফকে দুর্বিষহ করে তোলার এই ঘটনাগুলো মানবাধিকার ও ধর্মীয় অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন নয় কি? আমরা স্পষ্ট ভাষায় এটাকে মানবতাবিরোধী এবং দেশীয় আইন ও ইউনিভার্সিটি অর্ডারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করছি।

আমরা এখনো প্রত্যাশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের প্রতি অব্যাহত এই অন্যায়ের ইতি টানতে উদ্যোগী হবে। আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় ধর্মীয় অধিকার ক্ষুন্ন করার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন সুস্পষ্ট ঘটনাগুলোর তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং হেনস্থার শিকার শিক্ষার্থীদের পড়শোনা চালিয়ে যাওয়ার নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট হবে। অন্যথায় আমরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবো।

তারা আরো বলেন, হিজাব পরিহিতাদের শিক্ষার পরিবেশকে বিঘ্নিত করার প্রয়াসে বাংলা বিভাগের দেওয়া নোটিশের বিষয়ে উপাচার্যের পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা আমাদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ কর্তৃক পরীক্ষা, ভাইভা ও প্রেজেন্টেশনের সময় কানসহ মুখমণ্ডল খোলা রাখার নির্দেশ দিয়ে যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর আমরা ৫ দফা দাবি নিয়ে ভিসি স্যারের সাথে সাক্ষাত করেছিলাম। তিনি আমাদের দাবিগুলো শুনেছিলেন এবং এগুলোর যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন। আমাদের উপস্থিতিতেই বাংলা ডিপার্টমেন্টের কোনো একজন কর্মকর্তাকে কল করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করতে বলেছিলেন।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমরা ভেবেছিলাম তিনি সত্যিই অভিভাবকত্বের দায়িত্ববোধ প্রদর্শন করবেন। আমরা নিশ্চিন্ত হয়ে ক্লাসরুমেও ফিরে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরীক্ষা ঘনিয়ে আসতেই আমরা দেখতে পেলাম আমাদের সেই বিশ্বাস ও ভরসা ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। বাংলা বিভাগ তার পূর্বের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছে এবং আবারও বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আমাদের বোনদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে আমাদের হতাশা ও ক্ষোভের কথা জানাচ্ছি এবং অভিভাবকত্বের জায়গায় ভিসি স্যারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করছি।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: