শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন

পাঁচ অর্থবছরে ভারতে রফতানি হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টন ইলিশ

আল আমিন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৫৩

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় মাছ হলেও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে ইলিশের ক্রয়ক্ষমতা। উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও বাজারে আমিষ পণ্যটির দাম কখনো কমতে দেখা যায় না। উৎপাদনের পাশাপাশি দামও সমানতালে বাড়তে থাকে। ফলে বাজার গরমের পাশাপাশি ইলিশের দাম নিয়ে সব সময় চর্চিত থাকে। বিশেষ করে দুর্গা পূজা উপলক্ষে ভারতে মাছটির রফতানির বিষয়টি যখনই সামনে আসে তখনই দামের আলোচনা-সমালোচনা বেড়ে যায়। এবার এই আলোচনার আরো জোরালো হয় রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত। যদিও শেষ পর্যন্ত রফতানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ঠিক প্রতিবছর দেশটিতে কত ইলিশ রফতানি হয় আর এই রফতানির ফলে দামের ওপর কতটা প্রভাব পড়ে সেটা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। তবে মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গেল পাঁচ অর্থবছরে ভারতে রফতানি হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টন ইলিশ। আর এবার শর্ত সাপেক্ষে ৩ হাজার টন ইলিশ মাছ রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যদিও কেবল ২০২২-২৩ অর্থবছরেই ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন।

অর্ন্তরবর্তী সরকার শপথ নেওয়ার পর গত ১০ আগস্ট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছিলেন, দেশের মানুষ ইলিশ পাবে না, আর বিদেশে রফতানি হবে, এটা হতে পারে না। আগে দেশকে গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশে ইলিশ মাছের দাম বেশি হলেও তা রফতানি হচ্ছে; ফলে রফতানি বন্ধ করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষ যাতে ইলিশ মাছ পায় এবং দাম কমে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়া ৩ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ফিশারিজ অ্যান্ড লাইভস্টক জার্নালিস্ট ফোরামের (এফএলজেএফ) সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ফরিদা আখতার বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে এবার বাংলাদেশ থেকে ভারতে কোনো ইলিশ মাছ যাবে না।

যদিও প্রতিবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রফতানি করা হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রফতানি হয়েছিল প্রায় ৬৬৫ টন। এর আগের অর্থবছরে (২০২২-২৩) এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭৬ টন। এছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ২১১ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৮০ টন ইলিশ রফতানি হয়।

তবে এবার বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রফতানির বন্ধের ঘোষণা জানার পর ভারতে মাছটির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। এ নিয়ে দুই দেশের সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকেন। এরই মধ্যে  বাংলাদেশ থেকে ইলিশ পাঠাতে ১১ সেপ্টেম্বর অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ভারতের ফিশ ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন।

ওই চিঠি পাওয়ার পর গেল শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে ইলিশ রফতানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রপ্তানিকারকদের আবেদনের বিপরীতে নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণসাপেক্ষে তিন হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলো।

সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এ তারিখের পর আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না উল্লেখ করে যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন তাদের নতুন করে আবেদনের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর গেল রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্বাধীনভাবে এটা (রফতানির অনুমোদন) দিয়েছে। তারা একটা অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দিয়েছেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারতের বিশেষ অনুরোধ ছিল। সে অনুযায়ী তারা করেছেন। এর সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কমিটমেন্ট এখনো আগের মতোই আছে। আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য ইলিশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে চাই।

একই দিন সচিবালয়ে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বৃহত্তর স্বার্থে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, এটা বিরাট কোনো ক্ষতির কারণ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে দীর্ঘ মেয়াদে এটি একটি পজিটিভ ইস্যু হবে।

যদিও ভারতে ইলিশ মাছ রফতানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। গেল রোববার বাণিজ্যসচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আমদানি-রফতানি কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক বরাবর আইনি নোটিশটি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী মাহমুদুল হাসান।

আইনি নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। তা না হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: