শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

হাসিনার বিশ্বস্ত তৌফিকুল বিএনপির খাস লোক প্রমাণে মরিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ অগাস্ট, ২০২৫
  • ৫৮৫

নিউজটি শেয়ার করুন

মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল বর্তমানে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি। জানা গেছে, ফেসিস্ট শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত হিসেবে পুরস্কৃত তৌফিকুল বর্তমানে নিজেকে বিএনপিরও খাস লোক প্রমাণে ব্যস্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময়ে শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং তার পিএস সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তারির এমপি এবং আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম মেম্বার সাবেক মন্ত্রী এড. কামরুল ইসলামের হাতে গড়া ব্রাক্ষণবাড়ীয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে কেবল আওয়ামী ঘরানার এবং তাদের প্রতি প্রচন্ডভাবে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদেরকেই রাখা হয়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনো আব্দুল মুক্তাদির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান, ওবায়দুল মুক্তাদির এর ওয়াইফ  ট্রাস্ট বোর্ডের ফাউন্ডিং মেম্বার। সেই বডিতে তৌফিকুল ইসলাম মিথিল মেম্বার হিসেবে আছে।

অথচ বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপি’র একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দাবী করে আসছেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের মত একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখানে তিনি শক্তপোক্ত হয়ে বসেছেন বলে জানা গেছে। এখন আবার প্রচার করছেন যে তিনি বিএনপির কনিষ্ঠ কর্মী। তারেক জিয়ার তার সাথেও প্রতিনিয়ত কথা বলেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি’র কি এমন দুর্দশা হলো যে ফেসিষ্টের সুবিধা নেয়াদেরও জায়গা দিতে হবে? বিএনপি’র নেতা/কর্মীর কি এতই অভাব হয়ে গেল যে যারা শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত কামরুলেরও বিশ্বস্ত, সেই বিশ্বস্ততার পুরস্কার হিসেবে যে লোক ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ফাউনিং সদস্য বনে গেল, সেই লোক আবার তারেক জিয়ারও বিশ্বস্ত বিএনপিরও বিশ্বস্ত বিষয়গুলা।

কলেজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৌফিকুল ইসলাম মিথিল যখন বিএনপির লোক পরিচয় দিয়ে সভাপতি হয়ে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের সভাপতি হন। তখন বিগত বছরগুলিতে যারা নানা হয়রানির শিকার হয়েছে, নানা ক্ষেত্রে বঞ্চিত ছিলেন তারা আশায় বুক বেধেছিল যে তারা সকলে এবার তাদের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু দেখা গেল যে তিনি এসেই আওয়ামীলীগ ঘরানার লোকজন নিয়ে আগের মতই কলেজ চালাচ্ছেন এবং বিএনপি বা জাতীয়তাবাদী পক্ষের শিক্ষক/কর্মচারীদেরকে পুর্বের মতই নানান ক্ষেত্রে হয়রানী, হুমকী ধমকি এবং চাকরীচ্যুতির ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। তার এই সব কার্যক্রম দেখে শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে সন্দেহের উদ্রেক সৃষ্টি হয়। পরে জানা যায়, আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার দোসর হিসেবে সরকারের নানান সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন।

জানা গেছে, তৌফকুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজের শিক্ষক কর্মচারী ছাত্রছাত্রী অভিভাবক জাতীয় বিস্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি দাবী পেশ করে যাতে অনতিবিলম্বে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ থেকে তৌফিকুল ইসলাম মিথিলকে অপসারণ করা হয়। এবং একজন যোগ্য স্বাচ্ছ জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ প্রাদান করা হয়।

দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাউন্ডিং ট্রাস্টি মেম্বার অধ্যাপক শফিকুর রহমান। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং বিভাগের ২০২১-২০২৪ মেয়াদে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন  করেছিলেন। শফিকুরের নামে ২০২৪ এর গণঅবুত্থান বিরোধী এবং জগন্নাথের ছাত্র হত্যার প্রচেষ্টার অপরাধে কোতোয়ালি থানায় হত্যার চেষ্টা মামলা হয়েছে। যেই মামলার বাদী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। এই মামলায় তিনি ৭২ নাম্বার আসামী। সেই ব্যক্তির সাথে অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম মিথিল একই বোর্ডের সদস্য।

হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, যে লোক তাদের এবং এডভোকেট কামরুল ইসলামের আস্থাভাজন হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাউন্ডিং পাঁচটি মেম্বার হতে পারে। কোনভাবেই তিনি বিএনপি’র লোক হতে পারে না। কাজেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি জোরালো দাবি তো তাকে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পর থেকে অপসারণ করা হোক।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: