শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন

অধরাই রয়ে গেছে এনায়েতুল্লার সাম্রাজ্য, নির্লিপ্ত প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৫

নিউজটি শেয়ার করুন

বিগত স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পরিবহন খাতে নতুন করে সংস্কারের আশা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দেখা যাচ্ছে— সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। দুর্নীতি, দখলদারি ও সিন্ডিকেটের জাল ভেদ করে এখনো অক্ষত রয়েছে পরিবহন খাতের পুরনো শক্তি— খন্দকার এনায়েতুল্লা ও তার “এনা পরিবহন” সাম্রাজ্য।

এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েতুল্লার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়৷ বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হলে পতিত সরকারের প্রধান অর্থাৎ খোদ শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়৷ জানা যায় শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে তিনি বাগিয়ে নেন আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির সহসভাপতি পদ এবং একই সাথে হয়ে উঠেন পরিবহন সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র অধিপতি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খন্দকার এনায়েতুল্লার বিরুদ্ধে পুনরায় তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ছিল, তিনি পরিবহন খাত থেকে দৈনিক গড়ে ১.৫ কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করতেন। তদন্তে উঠে আসে রুট পারমিট বাণিজ্য, অর্থপাচারসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের তথ্য।

তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৫ মে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এনা পরিবহন ও স্টারলাইন পরিবহনের মোট ১৯০টি বাস ক্রোকের নির্দেশ দেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, জব্দ করা বাসগুলো বিআরটিসির কাছে হস্তান্তর করতে। কিন্তু নির্দেশের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি সেই আদেশ।

অভ্যুত্থানের পর খন্দকার এনায়েতুল্লা দেশত্যাগ করেন। যাওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে বিক্রি করে ফেলেন এনা পরিবহনের বহু বাস। কিন্তু সময়ের সাথে দেখা যায় অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয় করে এক প্রকার বিনা বাধাতেই আবারো ব্যাবসা পরিচলনা শুরু করেন। সাম্প্রতিক সময়ে একটি জাতীয় দৈনিকে খন্দকার এনায়েতুল্লার বক্তব্যে জানা যায়, জামাল কামাল মোল্লাকে সামনে রেখে বিদেশে বসেই তিনি আবার এনা পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ করছেন । বর্তমানে তার মালিকানাধীন ১৫০টির বেশি বাস বিভিন্ন রুটে নিয়মিত চলাচল করছে। বর্তমানে কাগজে অন্যদের নামে মালিকানা দেখানো হলেও বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ এনায়েতুল্লার হাতেই রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এনা পরিবহনের একাধিক কর্মচারী।

কর্মচারীদের ভাষ্যমতে, এনা পরিবহনের আয় থেকে বড় একটি অংশ এখন পাচার হচ্ছে বিদেশে, আরো একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংগঠিত করতে এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এই কোম্পানির তহবিল থেকে।

অন্যদিকে, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উদাসীনতা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিআরটিসির কর্মকর্তারা কার্যত কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। রাজনৈতিক প্রভাব ও ঘুষের বিনিময়ে প্রশাসনকে “নিষ্ক্রিয়” করে রাখা হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যদি প্রশাসন সত্যিই আইনের শাসনে বিশ্বাসী হয়, তাহলে এনায়েতুল্লার ক্ষমতাবান সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো— রাষ্ট্রের নীরব সম্মতি ও প্রভাবশালীদের অঘোষিত সুরক্ষা।”

দেশে পরিবহন খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এখন প্রশ্নবিদ্ধ। জনগণ জানতে চায়— আদালতের আদেশ কার্যকর না হওয়ার দায় কে নেবে? আর কতদিন অধরাই থেকে যাবে এনায়েতুল্লার

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: