বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

চৌধুরী আলম গুমে জড়িতে অভিযুক্ত বাসেত, মামুন, রহমান ঘুরছেন প্রকাশ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৯১

নিউজটি শেয়ার করুন

 

বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম গুমের ঘটনায় আট মাস আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এ অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই অভিযুক্তদের অধিকাংশজন সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। এখন তারা আত্মগোপনে আছেন। কয়েকজন অন্য মামলায় গ্রেফতারও হয়েছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অন্যতম কয়েকজন অভিযুক্ত। যারমধ্যে অন্যতম- মহানগর বিজনেস এসোসিয়েটসের (বঙ্গবাজার সংলগ্ন মার্কেট) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেত মাস্টার ও ফুলবাড়িয়ার এনেক্সকো টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর আল মামুন। এর মধ্যে আব্দুর রহমান ও মীর আল মামুন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর আব্দুল বাসেত মাস্টার বিএনপির বিতর্কীত কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি বিএনপির প্রয়াত নেতা মান্নান ভূঁইয়ার অনুসারী ছিলেন।

২০১০ সালে রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড থেকে চৌধুরী আলমকে অপহরণ করে ঘুম করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী জড়িত ছিল বলে জানায় চৌধুরী আলম পরিবার। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালে চৌধুরী আমল ঘুম হোন। ওই সময় এ ঘটনায় থানায় মামলা ভালো করে তদন্ত করা হয়নি। মামলা থেকে আসামীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরও তা তদন্তে গাফলতি চলছে। এ সুযোগে অনেক আসামি দেশ-বিদেশে আত্মগোপনে চলে গেছেন। আবার কয়েকজন প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

চৌধুরী আলমের ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমরা বিচার পাইনি। এখন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছি। আশাকরি আমরা ন্যায় বিচার পাব।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, গত ১০ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চীফ প্রসিকিউটর বরাবর চৌধুরী আলম ঘুমের অভিযোগ করেন তাঁর ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী। ওই অভিযোগটি রেজিস্ট্রিভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী আসামীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণে আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কর্ণেল জিয়াউল আহসান (মেজর জেনারেল হিসেবে বরখাস্ত), যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, কিশোরগঞ্জের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, ফুলবাড়িয়ার মহানগর বিজনেস এসোসিয়েটসের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান হুজুর ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেত মাস্টার, বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ী মীর আল মামুনসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

ওই আবেদনে আরও বলা হয়, চৌধুরী আলম পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং বিএনপি দলীয় নেতা ছিলেন। তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ৫৬ (বর্তমান- ২০) ওয়ার্ডের পরপর তিন বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় কমিশনার ছিলেন। ২০০৮ সালে ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জয় লাভ করার পর থেকে ওই আসামীরা চৌধুরী আলমকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করে। কারণ, চৌধুরী আলমকে গুম ও খুন গেলে গুলিস্তানের বিভিন্ন মার্কেট সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে দখল, মার্কেট সংলগ্নসহ ফুটপাতে চাঁদাবাজি করা যাবে। এ জন্য তারা বিভিন্ন সময় চৌধুরী আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে তারাই যোগসাজশে চৌধুরী আলমকে গুম করে। এর মধ্যে আব্দুর রহমান, আব্দুল বাসেত মাস্টার, মীর আল মামুন সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন চৌধুরী আলমের পরিবারের সদস্যরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল বাসেত মাস্টার, আব্দুর রহমান ও মীর আলম মামুন রাজনীতির পাশাপাশি গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার, বঙ্গবাজার, এনেক্সকো মার্কেটে ব্যবসা করেন। এখন তারা এ তিনটি মার্কেটে হর্তকর্তা। মার্কেটগুলোর চারপাশের ফুটপাত ও ফাঁকা জায়গায় হকার বসিয়ে চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন। এর মধ্যে গুলিস্তান এলাকায় চাঁদাবাজির পরিমাণ বেশি। আর তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিতর্কীত বিএনপি নেতা বাসেত মাস্টার।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা ট্রেড সেন্টারের এক ব্যবসায়ী বলেন, চৌধুরী আলমকে গুমের পর গুলিস্তান, বঙ্গবাজার এলাকার মার্কেটগুলোতে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছেন ওই তিন অভিযুক্ত। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্তায় আব্দুর রহমান ও মীর আল মামুন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন বাসেত মাস্টার সামনে থেকে মার্কেট এলাকায় যতো অনিয়ম আছে তা করছেন। অথচ চৌধুরী আলম গুমের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: