বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন

কর্মকর্তাদের গাড়ি বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামলেন পরিবহন চালকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৫০

নিউজটি শেয়ার করুন

চাকরিচ্যুতি ঘিরে ডিএসসিসিতে অচলাবস্থা

 

পরিবহন চালক ফেরদৌসকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তাদের গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন কর্পোরেশনের পরিবহন চালকরা। গত মঙ্গলবার থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ায় কর্মকর্তারা গাড়ি ছাড়া নগর ভবন ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

চালকরা জানান, মঙ্গলবার ফেরদৌসের চাকরিচ্যুতির চিঠি হাতে পাওয়ার পর তারা একযোগে এ সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে নগর ভবনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতির কারণে কর্মকর্তারা পায়ে হেঁটে নগর ভবন ছাড়েন। চালকদের স্পষ্ট ঘোষণা—ফেরদৌসের চাকরি পুনর্বহাল না হলে কর্মকর্তাদের গাড়ি আর চালানো হবে না।

সূত্র জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে প্রায় ছয় ঘণ্টা নগর ভবনে আটকে থাকেন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের পরপরই পরিবহন চালকরা নগর ভবনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কয়েকজন কর্মকর্তা গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা তাদের লাঞ্ছিত করেন। পরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চালকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের দাবির বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে দেখতে একটু সময় দিন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এরপর পরিবহন চালকদের সভাপতি ও বিক্ষোভকারীরা সিদ্ধান্ত নেন, চালক ফেরদৌসের চাকরি পুনর্বহাল এবং তিন পরিবহন কর্মকর্তার বদলি না হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে ময়লার গাড়ি ও বৈদ্যুতিক গাড়িও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এদিকে কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চালক ফেরদৌস গোলাপবাগ এলাকায় ময়লাসহ একটি ময়লার গাড়ি রেখে চলে যান। এতে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা ফোন করেন। পরে ফেরদৌসকে ফোন দেওয়া হলে তিনি কল রিসিভ করলেও গাড়িটি সরাননি। তবে ফেরদৌসের দাবি, গাড়িটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা সরানো সম্ভব হয়নি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিবহন ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম তালুকদার বলেন,
“আমাদের এক চালক ভাইয়ের কোনো দোষ না থাকলেও শোকের মধ্যে (খালেদা জিয়ার মৃত্যু) বিনা কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চালকের কোনো ভুল নেই। দোষ অফিসারদের। এ কারণেই আমরা অফিসারদের গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার ভাইয়ের চাকরি ফেরত দেওয়া না হবে, ততক্ষণ গাড়ি চালাব না।”

তিনি আরও বলেন,
“দেশের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তাই নগরবাসীদের কষ্ট না দিতে ময়লাবাহী গাড়ি বন্ধ করিনি। ময়লার গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ি চলমান রয়েছে। শুধু কর্মকর্তাদের গাড়ি বন্ধ রাখা হয়েছে। চাকরি ফেরত না পেলে আন্দোলন চলবে।”

চালকদের অভিযোগ, ফেরদৌসের চাকরিচ্যুতির পেছনে শ্রমিক দল নেতা আরিফ চৌধুরীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দাবি, কয়েক মাস আগে সিটি কর্পোরেশনের গাড়ির তেল চুরি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসে। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করে। এসব তথ্য ফাঁসের অভিযোগে একাধিক চালককে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।

জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর দুদক ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের গাড়ির তেল চুরির অভিযোগে অভিযান চালায়। পরে জানানো হয়, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযানে চালক থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়ির জ্বালানি খরচের ভুয়া বিল দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নগর ভবনে অভিযান চালানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের কারণে নগর ভবন টানা ৪০ দিন বন্ধ ছিল। অথচ ওই সময়ে কর্মকর্তারা অফিসে না এলেও তাদের জন্য বরাদ্দ গাড়ির প্রতিদিন ১৪–১৫ লিটার জ্বালানি খরচ দেখানো হয়েছে।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: