
আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলেও কৃষিবিদদের জাতীয় সংগঠন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) আওয়ামী দোষররা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষিবিদরা। গতকাল রবিবার ‘বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সর্বস্তরের কৃষিবিদবৃন্দের’ ব্যানারে এক মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তারা। কৃষিবিদদের অভিযোগ, ৩৫ হাজার সদস্যের এই সংগঠনটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লুটপাটের মহোৎসব চলছে। ৫ আগস্টের পরে আমরা আশাহত হয়েছি। স্বৈরাচার পতনের হলেও আওয়ামী সিন্ডিকেট তাদের লুটপাট অব্যাহত রেখেছে।
বক্তারা বলেন, জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে এই কমপ্লেক্সে। আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ও দলীয় লোক নিয়োগ করা হয়েছে এমন ৫০ এর অধিক কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে। যেহেতু এই কমপ্লেক্সে নিয়মিত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকেন, এ কারণে আমরা উদ্বিগ্ন যে এই কর্মকর্তা কর্মচারীরা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনটির মধ্যে সাবোটাইজ করতে পারে।
মানববন্ধনে কৃষিবিদ কৃষিবিদ কে.এম. সানোয়ার আলম বলেন, কেআইবিতে এনলিস্টমেন্ট ছাড়াই আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ঘুষ দিয়ে একটি কোম্পানি এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে, যারা বিভিন্ন সময়ে ফ্যাসিস্টদের কর্মকান্ডে অর্থায়ন করেছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কৃষিবিদ কে আই এফ সবুর বলেন, এই কেআইবি কমপ্লেক্স থেকেই গনঅভ্যুত্থান প্রতিহত করতে অস্ত্রসহ এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা হামলা করেছিল। আমরা আশংকা করছি, এখান থেকেই আরেকটি সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডের মত ষড়যন্ত্রমূলক কাজ ঘটানো হবেনা তার কোন নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারিনা।
আগামী ৭ দিনের মধ্যে আওয়ামী দোষরদের অপসারণ করে বৈষম্যহীন কৃষিবিদ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার দাবি জানান শফিকুর রহমান নোভেল। তিনি বলেন, অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসক বসিয়ে আওয়ামীলীগের আমলের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত করতে হবে। যারা আওয়ামীলীগের দোষরদের রক্ষা করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ রাজিবুল হাসান, কৃষিবিদ সৈকত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।