
তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন (এনসিএমএ)। দেশের সিগারেট খাতের একমাত্র সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবিত আইন সংশোধনী নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এনসিএমএ-এর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। যেখানে আইন অনুযায়ী, কোনো আইন সংশোধনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তামাক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্পখাতকে সরাসরি প্রভাবিত করবে—এমন আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত নেওয়া গণতান্ত্রিক ও নীতিগতভাবে জরুরি। বাংলাদেশি শিল্প সংগঠন হিসেবে সব সময় দেশের আইন ও বিধি-বিধানে এবং বাস্তবায়নযোগ্য যেকোনো আইনের প্রতি এনসিএমএ শ্রদ্ধাশীল।
সরকার সম্প্রতি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (২০১৩ সালে সংশোধিত) সংশোধনের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি নতুন প্রস্তাব যুক্ত করেছে। এর মধ্যে সিগারেটের প্যাকেটে ৯০ শতাংশ জায়গা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী সংযোজনসহ আরও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এসব সংশোধনী বাস্তবায়ন করা হলে সিগারেটের প্যাকেটে ৯০ শতাংশ জায়গা জুড়ে সচিত্র সতর্কবাণী থাকলে পণ্যের সঠিক তথ্য প্রদর্শনের সুযোগ কমে যাবে, ফলে নকল ও অবৈধ সিগারেটের বাজার সম্প্রসারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবৈধ ও নকল পণ্যের বিস্তার ঘটলে সরকারের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
তামাক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সঙ্গে এনসিএমএ সহযোগিতায় আগ্রহী। তবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক আলোচনা, বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া এবং অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।