শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় তামাক কর নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মে, ২০২২

নিউজটি শেয়ার করুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়া স্পিকার সামিটে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্মুল করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি একটি শক্তিশালী তামাক কর নীতি প্রণয়নের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে দ্রুত একটি শক্তিশালী তামাক কর নীতি প্রণয়ন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য অতিব গুরুত্বপূর্ণ। আজ ২৯ মে ২০২২, রোববার সকাল ১০.৩০ টায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে আয়োজিত “জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় তামাক কর নীতির গুরুত্ব“ শীর্ষক এক পরামর্শমূলক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি ও এইড ফাউন্ডেশন সম্মিলিতভাবে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট এর সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনটিটিপি এর আহবায়ক ড. রুমানা হক। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এর সমন্বয়কারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক-গবেষণা (উপসচিব) ড. মো. নুরুল আমিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর হেড অব প্রোগ্রাম সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমীন, দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট মো. হামিদুর রহমান খান, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের হেড অব প্রোগ্রামস ইকবাল মাসুদ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তামাক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহারের কারণে ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ মৃত্যু বরণ করেছে। মানুষের মৃত্যু অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে আনতে হলে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিতে হবে।

দেশে তামাক কর নীতি প্রণীত হলে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর করারোপ একটি সাধারণ নিয়মের মধ্যে আসবে। এর মাধ্যমে আধুনিক ও কার্যকর করারোপ পদ্ধতি ও কর আদায় পদ্ধতির প্রচলন হবে ফলে তামাক কর ব্যবস্থার জটিলতা কমে আসবে। একটি কমপ্রিহেন্সিভ তামাক কর নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর প্রশাসন আরো কার্যকর ও দক্ষ হয়ে উঠবে, তামাক কোম্পানীর হস্তক্ষেপ রোধ করা যাবে এবং কর ফাঁকি রোধ করা যাবে। এর মাধ্যমে সকল তামাকজাত দ্রব্য, তামাক উৎপদন ও বিক্রয় চেইন, তামাক চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, তামাক রপ্তানী ইত্যাদি বিষয়কে করজালের আওতায় আনা যাবে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং তামাকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনকে এগিয়ে নেবে।

সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো: শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ বলেন, বিইআর ও বিএনটিটিপি যৌথভাবে একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তামাক কর নীতির একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। এই রূপরেখা অনুসরণ করে জাতীয় তামাক কর নীতির একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রণয়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশে অতি সত্ত্বর একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x