বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

বগুড়ায় এসএম টোব্যাকোতে ডিবির অভিযানে মিলল বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩

নিউজটি শেয়ার করুন

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি অবৈধ সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট, জাল ট্যাক্সস্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) ডিবির একটি দল উপজেলার উথুলী থেকে প্রায় ডার্বি ব্র্যান্ডের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার শলাকা নকল সিগারেট, ৫ লাখ পিস ট্যাক্সস্ট্যাম্প, স্টার ও ডার্বি ব্র্যান্ডের খালি প্যাকেট এবং  সিগারেট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।

বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজ হাসান জানান,‘উথুলী এলাকায় একটি বাড়িতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির নামে নকল সিগারেট তৈরি হচ্ছে বলে জানতে পারি। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে ডার্বি সিগারেটের ১ লাখ ৬০ হাজার শলাকা,  ট্যাক্সস্ট্যাম্প, অসংখ্য স্কচটেপ ও ফয়েল পেপার উদ্ধার করেছি।’

ডিবি সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে এসএম টোব্যাকো শিবগঞ্জের নিভৃত এলাকায় কারখানা স্থাপন করে অবৈধভাবে নকল সিগারেট উৎপাদন করছে। এসব সিগারেটের প্যাকেটে নকল ট্যাক্স স্ট্যাম্প ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে। জব্দকৃত ৫ লাখ ট্যাক্সস্ট্যাম্প দিয়ে অন্তত ৫০ লাখ শলাকা সিগারেটে ব্যবহার করা যেতো।

২০২১ সালে করা এক অভিযানে এসএম টোব্যাকোর কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম ছিল সুরাইয়া সরকার। তবে সম্প্রতি কাগজপত্র দেখে জানা যায় কারখানার মালিকের নাম নূর ইমরান শাহরিয়ার সরকার। বক্তব্যের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত নাম্বারে কল দিলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য ২০২১ সালে বগুড়ার সাথী সিনেমা হল ভবন ব্যবহার করে অবৈধ সিগারেট উৎপাদন করতো ওই প্রতিষ্ঠান। শতকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে র্যা ব তা সিলগালা করে দেয়। এর কিছুদিন পর শিবগঞ্জের নিভৃত এলাকায় আবার কারখানা স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইন অনুযায়ী একটি সিগারেট কারখানা স্থাপন করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ প্রায় ১৯টি অনুমোদন লাগে। এছাড়া সিগারেট বাজারজাত করতে হলে ৮১ শতাংশ পর্যন্ত ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। মূলত এই বিপুল অংকের ট্যাক্স ফাঁকি দিতেই অবৈধ সিগারেট কারখানা গড়ে ওঠে।

এসএম টোব্যাকো মূলত দুবাই, সেনর গোল্ড, স্মার্ট ব্ল্যাক ইত্যাদি সিগারেট উৎপাদন করে। এসব সিগারেট সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে অনেক কমদামে বিক্রি করে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ বেশি লাভের আশায় জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নকল করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন করছে।

জানা যায়, এই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ট্রেডমার্ক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হবে।

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়:
x