
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে হামলা করে ৭জনকে আহত করেছে অজ্ঞাত হিংস্র বন্য প্রাণী।এ নিয়ে আতংক বিরাজ করছে আশপাশের এলাকাগুলো। আহতরা হলেন, আলীরাজাপুর গ্রামের ওয়াজেদ উল্লাহর পুত্র আঃ খালেক (৭০), কবির মিয়ার পুত্র খোকন মিয়া (২২), রাণীরকোট গ্রামের জয়নাল আবেদিনের পুত্র মানিক মিয়া (৪৫), ছৈয়দ উদ্দিনের পুত্র সাইফুল ইসলাম (২৪), অজ্ঞাত নামা ভিক্ষুক মহিলা, কালিশিড়ী গ্রামের আঃ করিমের পুত্র আঃ সহিদ (৬৭) ও মাহফুজ মিয়ার কন্যা শিল্পী আক্তার (২২)। শিল্পী আক্তার গর্ভবতী।
বুধবার (৫ জানুয়ারি) এ হামলার শিকার হন তাঁর আহতদের মধ্যে গুরুতর আঃ খালেককে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।বাকীরা চুনারুঘাট উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আলীরাজাপুর ও রাণীরকোটের আহতরা জানান, মাটি রঙের হিংস্র প্রাণীটি আচমকাই সবাইকে আক্রমণ করেছে।তারা ধস্তাধস্তি করেও এর শক্তির সঙ্গে পেরে উঠেননি। সকাল এবং সন্ধ্যা রাতে তাদেরকে আক্রমন করেছে প্রাণীটি। একটি না একাধিক প্রাণী তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কালিশিরী গ্রামের আহতরা জানান, রাত সাড়ে সাতটায় ডোরাকাটা রঙের একটি ছোট্ট প্রাণী তাদের উপর হামলা করে।আহত ওই দুই জনের গায়ে একাধিক আঁচড় ও কামড়ের দাগ রয়েছে।
এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আতংকিত হয়ে উঠেছেন পুরো এলাকাবাসী।হাতে লাঠি নিয়ে যুবকদের দল টহল দিচ্ছেন এলাকা জুড়ে।
৬ জানুয়ারি সকালে বন বিভাগের ২ জন বন্দুকধারীকে রাণীরকোট এলাকায় দেখা গেছে।এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে, তদন্ত সাপেক্ষ দ্রুত এর প্রতিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হবিগঞ্জ চুনারুঘাট থানার রাজাবাজার আলীরাজাপুর গ্রামে এক ভিক্ষুক সহ গ্রামের প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনকে কামড়ায় এই ভয়ঙ্কর প্রাণীটি। আক্রমণ করার সময় শুধুমাত্র শিকারের মুখে আক্রমণ করে। বেশিরভাগ আহত ব্যক্তিদের মুখ ,নাক এবং চোখের মধ্যে মারাত্মক ক্ষত-বিক্ষত করেছে এই বাঘ। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা অনেক আশঙ্কাজনক। বাঘের কারনে সম্পূর্ণ গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোন ফরেস্টার কিংবা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সম্পূর্ণ গ্রামটি রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে ।সন্ধ্যা হওয়ার আগেই সবাই চলে যাচ্ছে যার যার গন্তব্য স্থলে দোকানপাট এমনকি মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সব বন্ধ হয়ে গেছে ঐ গ্রামে।
স্থানীয় লোকজন এই প্রাণীটির নাম জানিয়েছে লেখক। মেছোবাঘ প্রকৃতির প্রাণী আজ দুদিন ধরে এভাবেই কামড়ে আহত করছে গ্রামবাসীকে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায় আজ ৬ জানুয়ারি ২০২২ ইং ফরেস্ট কর্মকর্তাগন লেখককে ধরতে আসলে খুঁজে পায়নি বলে জানায়, যাদেরকে কামড়িয়েছে আব্দুল খালেক খোকন মিয়া পিতা কবির ৫০ বয়স বছর পেশা ভিক্ষুক, হুসনা নামের ভিক্ষুক সহ এই পর্যন্ত ১০-১৫ জনকে কামড়িয়ে আহত করেছে বলে জানা যায়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তার সাথে আলাপ করলে জানা যায় অনেক ক্ষেত্রে বনের মধ্যে খাবারের অভাব প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে এ ধরনের হিংস্র বন্যপ্রাণীরা মানুষের কাছাকাছি এসে মানুষের উপর আক্রমণ করে বলে জানা যায়। গ্রামবাসী দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ কে জানান ফরেস্ট লোকেরা শুধুমাত্র এসে লোকদেখানো ভাবে গ্রাম থেকে ঘুরে গেলেও তারা লেখক কে ধরার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে কোন চেষ্টা করেনি বলে জানায়। যেকোনো মুহূর্তে এই বাঘের আক্রমণে নিরীহ মানুষের জীবন যেতে পারে।