
নেপাল-চীন সীমান্তঘেঁষা ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ৮৫ জন সদস্যও রয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) নেপাল সরকারের সর্বশেষ হিসাবের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট। এদিন সকাল ৯টায় ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) জানায়, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে মানবদেহাবশেষসহ মোট ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ ৮৫ উদ্ধারকর্মীর মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৫ জন, নেপাল পুলিশের ২৭ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ জন সদস্য রয়েছেন।
মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চিতওয়ান জেলা। সেখানে ২৫৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর নওয়ালপরাসি ইস্ট থেকে ১৮৪টি এবং নওয়ালপরাসি ওয়েস্ট থেকে ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া গোরখায় ৫৮টি, নুয়াকোটে ৫২টি, ধাদিংয়ে ৫০টি, তানাহুনে ৩৬টি এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে বন্যার সময় বহু মরদেহ ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে যায়। পরে মূল বন্যাকবলিত এলাকা থেকে শত শত কিলোমিটার দূরের ভাটি অঞ্চলেও এসব মরদেহ পাওয়া যায়।
নিখোঁজের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাসুয়া জেলা। সেখানে ৫৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া নুয়াকোটে ১১৫ জন এবং মাকওয়ানপুরে ৬৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
নিখোঁজদের তালিকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জনও রয়েছেন। এ ছাড়া ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং তাদের সাথে ভ্রমণ করা ১২৭ জন নেপালি নাগরিকও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, বন্যায় মোট ২৪২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির পাশাপাশি চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ১৯ হাজার ৮৯৫ জন নিরাপত্তাকর্মী। তাদের মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনীর ৮ হাজার ৩৯৯ জন, পুলিশের ৭ হাজার ২১৩ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪ হাজার ২০৩ জন সদস্য রয়েছেন।
বন্যার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।