
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কমানোর যে প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দিয়েছে, তা অনুমোদন করা হলে সরকারের ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।
সংগঠনটির মতে, একটি তামাক কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থে বিদ্যমান করনীতি শিথিল করা হলে তা ভবিষ্যতে তামাক করনীতির ক্ষেত্রে ‘বিপজ্জনক নজির’ তৈরি করবে। এতে তামাক কোম্পানি লাভবান হলেও জনস্বাস্থ্য ও সরকারি রাজস্ব—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিএনটিটিপির সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিলের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএটিবি তাদের ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ব্র্যান্ডের দাম ১০৮ টাকা থেকে কমিয়ে ৯২ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
বিএটিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, দাম কমানোর অনুমতি দেওয়া হলে নিম্নস্তরের প্রতি প্যাকেটে সরকার প্রায় ৭ টাকা ৪৭ পয়সা এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটে প্রায় ১৩ টাকা ২৮ পয়সা রাজস্ব হারাতে পারে বলে হিসাব দিয়েছে বিএনটিটিপি।
সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোর ব্র্যান্ডভিত্তিক বিক্রির তথ্য অনুযায়ী ডারবি, পাইলট ও হলিউডের সম্ভাব্য বিক্রি প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি শলাকা এবং লাকি স্ট্রাইকের প্রায় ১৮০ কোটি শলাকা। এই হিসাব অনুযায়ী প্রস্তাবিত দাম কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ২ হাজার ২১১ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
এর মধ্যে নিম্নস্তরের সিগারেট থেকে প্রায় ১ হাজার ৯৭২ কোটি এবং মধ্যম স্তর থেকে প্রায় ২৩৯ কোটি টাকা রাজস্ব কমতে পারে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বিএনটিটিপি আরও বলেছে, গত ৭ জুন জারি করা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে বাজারে প্রচলিত কোনো সিগারেট ব্র্যান্ডের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমানোর সুযোগ না রাখার কথা বলা হয়েছে। একটি কোম্পানির ব্যবসায়িক পূর্বাভাস ও মুনাফার স্বার্থে এ নীতিগত সুরক্ষা শিথিল করার যৌক্তিকতা নেই।
সংগঠনটির দাবি, দাম কমালে বিক্রি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে—বিএটিবির এমন ধারণার পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বরং দাম কমানোর ফলে বৈধ বাজারের ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামের ব্র্যান্ডে চলে গেলে মোট বিক্রি বাড়লেও সরকারের প্রকৃত রাজস্ব কমে যেতে পারে।
বিএনটিটিপি বলেছে, চলতি অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ থাকায় সিগারেটের দাম তুলনামূলক কম হারে বাড়ায় প্রকৃত অর্থে পণ্যটি আরও সস্তা হয়েছে।
এ অবস্থায় সিগারেটের দাম আরও কমানোর প্রস্তাব জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য—দুইয়ের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে সংগঠনটি।
তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও করনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য ও সরকারি রাজস্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনটিটিপি বলেছে, কোনো নির্দিষ্ট তামাক কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান আইন ও করনীতি পরিবর্তন করা উচিত নয়।