
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এসব অভিযানে ৪৯ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে শুক্রবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক অভিযানে ১২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে চালানো অভিযানে আরও ৩৭ জন নিহত হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিহতদের ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি এবং বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর জন্য যথাক্রমে এই নাম ব্যবহার করে।
পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, টিটিপি ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আফগানিস্তানে থাকা নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে হামলা চালায়। একই সঙ্গে বেলুচ গোষ্ঠীগুলো ভারত থেকেও সমর্থন পায় বলে দাবি করে আসছে দেশটি। তবে আফগানিস্তান ও ভারত উভয়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি একটি আলাদা সংগঠন হলেও আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র সহিংসতা বেড়েছে এবং এসব হামলার বেশিরভাগের জন্য টিটিপি ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু সবচেয়ে কম জনবহুল প্রদেশ বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বেলুচ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিদ্রোহের কেন্দ্র। এসব গোষ্ঠী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন কিংবা স্বাধীনতা দাবি করে আসছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা বেলুচিস্তানে টিটিপি ও ইসলামিক স্টেটের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও বিভিন্ন সময়ে হামলা চালিয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানকে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছে। তবে এসব অভিযানে নিহতদের পরিচয় ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।