শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

গুলশাল সেন্ট্রাল পার্কের দখলদারকে বৈধতা, উম্মুক্ত স্থান দখল অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০

নিউজটি শেয়ার করুন

গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের উন্মুক্ত জায়গা নতুন করে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের বিরুদ্ধে। গত চার মাস ধরে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় পার্কের নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের চিত্র সংযুক্ত করে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ প্রদান করেছেন পরিবেশবাদীরা।

আজ বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, সরকারের উন্মুক্ত পার্ক ও মাঠ সংরক্ষণের নীতিগত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের মাঠ ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নীরবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের প্রশ্ন, একটি উন্মুক্ত নাগরিক পার্কে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ বারবার জানানো সত্ত্বেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের পূর্ববর্তী বেআইনি স্থাপনা ও দখলকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে মাঠ, পার্ক ও জলাধার সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন এবং আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে রাজউক ব্যবস্থাপনা চুক্তি করেছে। ওই চুক্তির বিভিন্ন ধারার মাধ্যমে পার্কের মাঠ ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ব্যবহার সীমিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে একটি উন্মুক্ত নাগরিক পার্ক ক্রমেই একটি ক্লাবের আয়-উপার্জনের সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, ক্লাবের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্কের উন্মুক্ত স্থান দখল করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত জায়গা ক্রমশ কমে যাচ্ছে এবং পার্কের স্বাভাবিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, অর্থের বিনিময়ে মাঠ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় যাদের আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তারাই মাঠ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। পরিবেশবাদীদের মতে, মাঠ ও পার্কের এ ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহার প্রযোজ্য আইন ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।

পরিবেশবাদীরা আরও বলেন, মহামান্য হাইকোর্ট ২০২৪ সালে একটি রিট মামলার প্রেক্ষিতে বিদ্যমান মাঠ ও পার্কে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু ওই নির্দেশনার পরও ‘ব্যবস্থাপনা’র নামে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে মাঠে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আইন ও আদালতের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় মাঠ ও পার্ক সংরক্ষণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মেয়র ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে পার্ক ও মাঠের বিভিন্ন স্থান দখল করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ পেয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে রাজউকের সঙ্গে মাঠ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুনরায় চুক্তি করা হয়েছে বলে পরিবেশবাদীরা দাবি করছেন। এর আগে তৎকালীন মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত মাঠ ব্যবহারের একটি চুক্তি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরিবেশবাদীদের ধারাবাহিক প্রতিবাদ ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একপর্যায়ে রাজউক পার্কটির দায়িত্ব নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নেয় এবং মাঠের বিভিন্ন বেআইনি স্থাপনা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও মাঠটি গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় দেওয়ায় নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন পরিবেশবাদীরা।

তাদের মতে, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক কোনো ক্লাবের বাণিজ্যিক সম্পদ নয়; এটি নগরবাসীর উন্মুক্ত নাগরিক সম্পদ। সরকারের উন্মুক্ত মাঠ ও পার্ক সংরক্ষণের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পার্কটির উন্মুক্ত চরিত্র নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

চার মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় পরিবেশবাদীরা এবার দখলের বর্তমান চিত্র, নতুন স্থাপনা নির্মাণের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ প্রদান করেছেন।

পরিবেশবাদীরা বলেন, চার মাস ধরে অভিযোগের পরও যদি একটি উন্মুক্ত নাগরিক পার্কে নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করে। তাই আর কোনো বিলম্ব না করে গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের দখল ও বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: