সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

ফ্রান্সে রেসিডেন্স পারমিট নবায়নে জটিলতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্রান্সের বৃহত্তর প্যারিস এলাকার ৯২ ডিপার্টমেন্ট উ-দ্য-সেইনের প্রেফেকচুরে বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপত্র নবায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ডিপার্টমেন্টটির প্রেফে আলেক্সন্দ ব্রুজেরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে বিদেশিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এডিডিই।

সংগঠনটির অভিযোগ, বৈধভাবে ফ্রান্সে বসবাসকারী বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এমনকি আবেদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে কাজ করার সুযোগও হারাচ্ছেন।

সম্প্রতি ফরাসি বামপন্থি সংবাদমাধ্যম লি’উমানিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উ-দ্য-সেইনের প্রেফে আলেক্সন্দ ব্রুজেরের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে।

এরপর বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভি উ-দ্য-সেইনে রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন নিয়ে বিদেশিদের ভোগান্তির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে ক্যামেরুনের নাগরিক সেদ্রিকের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের জন্য প্রেফেকচুরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ায় তিনি কাজ করতে পারছেন না।

প্রতিবেদনে প্রেফে আলেক্সন্দ ব্রুজেরের বিরুদ্ধে এডিডিইর নেওয়া আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

বিএফএমটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেন প্রেফে ব্রুজের। পরে ফরাসি ডানপন্থি দৈনিক লো ফিগারোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অনিয়মিত অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত করার ক্ষেত্রে তিনি কঠোর নীতি অনুসরণ করছেন।

প্রেফেকচুরের দাবি

অভিযোগের মধ্যে উ-দ্য-সেইন প্রেফেকচুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির সময় কমানোর তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রেফেকচুরের দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত জনবল দেওয়ার পর চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির গড় সময় ৩৫ শতাংশ কমেছে। আগে যেখানে গড়ে ১৪২ দিন লাগত, সেখানে এখন সময় নেমে এসেছে ৯২ দিনে।

এ ছাড়া জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে অপেক্ষমাণ রেসিডেন্স পারমিট আবেদনের সংখ্যাও ৩২ শতাংশ কমেছে। জানুয়ারিতে ২৪ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ থাকলেও আগস্টে তা কমে ১৬ হাজারে নেমে আসে।

প্রেফেকচুর জানিয়েছে, প্রতি মাসে রেসিডেন্স পারমিট দেওয়ার সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে মাসে দেওয়া পারমিটের সংখ্যা ৩ হাজার থেকে বেড়ে ৬ হাজার হয়েছে।

কাজের অনুমতিপত্রের আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জানুয়ারি থেকে এ সময় ৮০ শতাংশ কমে ৭৫ দিন থেকে ১৪ দশমিক ৭ দিনে নেমেছে বলে জানিয়েছে প্রেফেকচুর।

তবে প্রেফেকচুর স্বীকার করেছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সব সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি। তারপরও সামগ্রিক ফলাফলকে তারা ‘অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক’ বলে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে, প্রেফে আলেক্সন্দ ব্রুজের জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর একই সময়ে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ৫১ শতাংশ বেড়েছে।

এ ছাড়া জনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধে জড়িত বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিটের মর্যাদা কমানোর ঘটনাও দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেফেকচুর। একই সময়ে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বিদেশিদের নিয়মিত করার সংখ্যা ৪৭ শতাংশ কমেছে।

উ-দ্য-সেইনের প্রেফে প্রেফেকচুরের কর্মীদের কাজের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: