
বসনিয়া-হার্জেগোভিনা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশ ক্রোয়েশিয়ায় অনিয়মিতভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৯৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করেছে বসনিয়ার সীমান্ত পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির সীমান্ত পুলিশ জানায়, আগের দিন বুধবার উত্তর বসনিয়ার বিস্ত্রিচা এলাকার কাছে দুই দফা অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
প্রথম অভিযানে ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানি ও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। পরে একই এলাকায় চালানো দ্বিতীয় অভিযানে আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২ জন পাকিস্তানি, ১৩ জন বাংলাদেশি ও ১৮ জন আফগান নাগরিক রয়েছেন।
সীমান্ত পুলিশ জানায়, নজরদারি অভিযানের সময় অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পার হওয়ার দুটি চেষ্টা শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ব্যবহারের জন্য রাখা দুটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। মানবপাচারের সাথে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বসনিয়ার বিদেশিবিষয়ক পরিষেবার বানিয়া লুকা ফিল্ড সেন্টারকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলছে।
এর আগে বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের উনা নদীতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে একজনের মৃত্যু হয়। গত ৩১ আগস্টের এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে ক্রোয়েশিয়ার হ্রভাতস্কা কোস্টাইনিকা এলাকায় সীমান্ত পুলিশ উনা নদী থেকে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে মানুষের আর্তনাদ শুনতে পায়। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা নদী থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং জীবিত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করেন। তাদের একজন চীনের নাগরিক।
এ ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে একজন বসনিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় এতে অন্তত আটজন আরোহী ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা ইইউতে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে তাদের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি।
বলকান রুট দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে ক্রোয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট দেশ। বসনিয়া-হার্জেগোভিনা হয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করেন।
ইইউর সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে বলকান রুটে ৪ হাজার ৯০০টির বেশি অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৬ শতাংশ কম।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বলকান রুট দিয়ে ইউরোপে পৌঁছেছেন ১২ হাজার ৫০০ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এই রুটে ৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।