
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, ১২ অক্টোবর রাতে চালানো হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হানে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলেনস্কি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের সতর্কবার্তা মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খবর রয়টার্সের।
জেলেনস্কির অভিযোগ, সাধারণত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে ইউক্রেন পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে আগাম তথ্য পেয়ে থাকে। কিন্তু এবার সে ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। ফলে হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র কথা ঘোষণা করেন। তবে এ বিষয়ে মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের কোনো জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়নি। তবে দেশটির পরিবহন ও রসদ সরবরাহব্যবস্থা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো থেকে বিরত রয়েছে। এর মধ্যেই কিয়েভে রুশ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, ইউক্রেনের তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ না করলে আমেরিকা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে পারে—এমন হুমকির খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমেরিকার সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ফলে কিয়েভ আগাম সতর্কতা না পাওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম তথ্য পাওয়া ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি রাশিয়ার আকাশপথের হামলা মোকাবিলায় পশ্চিমা মিত্রদের গোয়েন্দা সহায়তার ওপর নির্ভর করে।