বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০

নিউজটি শেয়ার করুন

আর্থিক সংকটে থাকা বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাসের জন্য এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে অর্থ পরিশোধ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান জানান, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি থাকায় এ অর্থায়নে সোনালী ব্যাংকের ঝুঁকি নেই।

সোনালী ব্যাংকের এই অর্থায়নের লক্ষ্য ন্যাশনাল ব্যাংকের তাৎক্ষণিক তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের সব শাখা ও এটিএম বুথে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

একসময় দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন ঘটে। পরে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ সিকদার পরিবারের হাতে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিচালনা পর্ষদে আবার পরিবর্তন আনা হয়।

তবে আগের সময়ের অনিয়ম, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও ধারাবাহিক লোকসানের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাংকটি। তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী আমানতের টাকা পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও বিভিন্ন সময়ে তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে তাতেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী জমা টাকা তুলতে না পেরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে তাঁদের সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ উত্তোলন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন আদালত।

এ অবস্থায় গত ৮ অক্টোবর ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন গভর্নর।

এর আগে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দায় মেটাতে হয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের দায় আরও বেড়ে যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নেওয়ার ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক তারল্য সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। তবে খেলাপি ঋণ আদায়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নতি না হলে দীর্ঘমেয়াদে সংকট কাটানো কঠিন হবে।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: