
অনার্স এ ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী ক্যারিয়ার বা সমস্যা নিয়ে অনেকেই দিশোহারা। বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ কিছু লেখা। বিশেষ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন অবশ্যই আগে থেকে জেনে নিবেন উক্ত বিশ্বিবদ্যালয়ের কোন কোন বিভাগে সেশনজট আছে ? দেখা গেল আপনি চান্স পেয়েছেন সেখানে ১/২ বছরের সেশনজট। ভর্তি হওয়ার পর বুঝবেন লাইফের বয়স কোথায় চলে যাচ্ছে! এর চেয়ে কম জট আছে হোক সেটা তুলনামূলক নিম্ন সাবজেক্ট সেটাতে ভর্তি হওয়া উচিত তবে সব ক্ষেত্রে সবার জন্য নয়। যেমনঃ কারো ইংরেজি পড়ার ইচ্ছা, কারো ম্যাথে পড়ার ইচ্ছা, কারো রসায়ন বা পদার্থ বিজ্ঞান সেখানে তার সেখানেই পাশন তাহলে সেটা ভিন্ন কথা।
অর্থনৈতিক দিক :
এরপর আপনার অনার্স ভর্তি হওয়ার সাথে সাথে নতুন জায়গায় অনেক বাস্তবতা এসে হাজির হবে বিশেষ করে অর্থনৈতিক দিকটা। আর এটা থেকে কাটিয়ে উঠতে না পারলে আপনার রেজাল্ট ফল করবে। এজন্য কিছু টাকা জমিয়ে মেচে আসা। আপনি মনে করছেন নতুন জায়গায় আসবেন আর টিউশনি শুরু করবেন অতো সহজ নয়। পরিচিতি হবে এরপর টিউশনি পাবার সম্ভাবনা হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে :
যারা জাতীয় বিশ্বিবদ্যালয়ে ভর্তি হবেন অবশ্যই আপনারা যে সাবজেক্ট পাবেন সেটাই ভর্তি হয়ে যাবেন। ভালো সাবজেক্ট পাননি বলে ইয়ার লস দেওয়া চরম একটা বোকামি কাজ হবে। আপনারও আপনাদের বাস্তবতার আলোকে আয়ের উৎস তৈরি করুন।
ভালো ফলাফল ও ক্যারিয়ার গঠন :
ইম্প্রুভমেন্ট বা মান উন্নয়নের কথা ভুলেও মাথায় নিয়ে আসবেন না। নিয়মিত ক্লাসের পড়া ২.৩০/৩ ঘন্টা পড়লেই ইনশাআল্লাহ কভার হয়ে যাবে। নিয়মিত নোট তৈরি করে রাখুন। আশা করা যায় একটা ভালো রেজাল্ট হবে। অনার্সের প্রথম বছরেই অতি প্রয়োজনীয় কম্পিউটারের ব্যাসিক কোর্স টি করে রাখুন। ms word,ms excel, power point,.
যাদের ক্যারিয়ারের উচ্চ প্লান রয়েছে বিশেষ করে BCS/Bank job /IELTS আপনারা ৪র্থ বর্ষের শুরু থেকে জবের পড়া শুরু করবেন।
যারা বাহিরে যেতে চান, অনার্স ৩য়/৪র্থ বর্ষে কমপক্ষে দুটি রিসার্চ পেপার কাজ করা।
যারা উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হতে চান তারা ৩য়/৪র্থ বর্ষ থেকে SOWT Analysis, Hypothesis, Market Analysis আপনার উক্ত ফিল্ডে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করা ও ইমপ্লিমেন্টেশন বা প্রয়োগ করা।
বিয়ে পড়ালেখায় কি প্রতিবন্ধকতা :
ছাত্র অবস্থায় যদি পারিবারিক ভাবে বিয়ের সুযোগ তৈরি হয় অবশ্যই মিছ করবেন না।(তবে এটার জন্য প্রয়োজ্য নয় বিশেষ করে যারা পরিবারকে দেখতে হয়) ৩য়/৪র্থ বর্ষের মধ্যে সম্পন্ন করবেন। উল্লেখ্য ২০১৮ সালে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন ছাত্র-ছাত্রী ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেডেল’ পান তার মধ্যে ৩ জনই বিবাহিত ছিলেন অর্থাৎ ছাত্র অবস্থায় বিয়ে করা ক্যারিয়ারির প্রতি বাধা নয় বরং সহায়ক।
নৈতিকতা সমুন্নত রাখার জন্য অবশ্যই খারাপ বন্ধু সাথে ক্লোজ সম্পর্ক স্থাপন করবেন না। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন সর্বদা।
আপনি মনে করবেন না যে, অনার্স-মাস্টার্স শেষ করলে আপনি সফল। মাস্টার্স শেষ করে আপনি জব/কর্মক্ষেত্রে তুমুল এক প্রতিযোগিতামূলক যায়গায় প্রবেশ করবেন। যদি একজনেরও উপকার হয় তাহলে আমার এ লেখা সার্থক হবে বলে মনে করবো।
রুবেল হুসাইন
অর্থনীতি বিভাগ, মাস্টার্স
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়