রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

চিকিৎসা ব্যবস্থার কিংবদন্তি ড. হাকীম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া

অর্থনীতি ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৮৯

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে ইউনানী এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সেককালের মনে করা হতো। কিন্তু স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের বিধ্বস্ত আর রুগ্ন স্বাস্থ্যখাতে নিজের মেধা আর মননকে কাজে লাগিয়ে ড. হাকীম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া এ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। হামদর্দের ঔষধসমূহ ভেষজ উদ্ভিদ আর প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিহীন। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে ঔষধ পৌঁছে দিতে হামদর্দ এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে।

দেশজুড়ে প্রায় তিন’শ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে হামদর্দ স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে।বিস্ময়কর হচ্ছে এসব বিক্রয় কেন্দ্রে ডাক্তারি পরামর্শের জন্য কোনো মূল্য রাখা হয় না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিহীন প্রকৃতির দানীয় এসব ঔষধ পৌঁছে দিতে হামদর্দ যে বিপনন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে তা বাংলাদেশে অনন্য। উদ্যোক্তার প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে ঝুঁকি নেয়া। ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া বরাবরই ঝুঁকি নিয়েছেন এবং একটি মৃত প্রায় প্রতিষ্ঠান হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ ওয়াকফ বাংলাদেশকে একটি আধুনিক এবং চিকিৎসা খাতের মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে ১৯৭৭ সালে জরাজীর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। এই ব্যক্তির সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতায় আজকে হামদর্দের সম্পদের পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায়। এছাড়াও কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন ও উন্নয়নে তিনি একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

এরমধ্যে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, লক্ষ্মীপুরে রওশন জাহান ইষ্টার্ণ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (ইউনানী), বগুড়ায় হামদর্দ ইউনানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ও রাজধানী ঢাকায় হাকীম সাঈদ ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল অন্যতম।

বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞান পাঠদানের স্বপ্নদ্রষ্টা ড. হাকীম মোঃ ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া। হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এ প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামের পাশাপাশি তিনি দু’টি বিভাগ চালু করেছেন। বিভাগগুলো হচ্ছে ব্যাচেলর অব ইউনানী মেডিসিন এন্ড সার্জারী ও ব্যাচেলর অব আয়ুর্বেদিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এর উন্নয়নে তিনি যে বীজ রোপণ করেছেন তা আগামীতে চিকিৎসা শাস্ত্রের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করবে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকলে তা দেশের স্বাস্থ্য খাতে নিরবে বিপ্লব ঘটাবে। প্রাচীন ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতিতে আধুনিকতার ছোয়া লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশে ইউনানী চিকিৎসায় যে বিপ্লব ঘটালেন তা বলা চলে এক যুগান্তরকারী পরিবর্তন।

ঔষধ শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি মানব সেবায়ও ড. হাকীম ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৮৩ সাল থেকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতিমায় ফ্রী চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন।২০১৯ সালে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার মুসল্লীকে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করেন। ২০১১ সাল থেকে রাজধানীর আশকোনাস্থ হজ অফিসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যাবস্থা করেন।
২০১৯ সালে প্রায় ৪০ হাজার হজ যাত্রীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। যৌবনের সোনালী সময় গুলো যিনি বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় এবং জনহিতৈষী কাজে ব্যয় করেছেন তিনি যুগ যুগ ধরে এদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান পাবেন। এই কর্মবীর শতায়ু লাভ করবেন এই প্রত্যাশা করি।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: