রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধের ধাক্কায় অর্ধেকে নেমে এসেছে জনশক্তি রপ্তানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ অগাস্ট, ২০২৬

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিভিন্ন দেশের আকাশপথ বন্ধ হওয়া, নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্থিরতার কারণে গত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ২ লাখের বেশি।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশে যাওয়া পুরুষ শ্রমিক কমেছে ২ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ জন।

গত বছরের একই সময়ে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৭ জন পুরুষ শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিলেন। চলতি বছর এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬৪ জনে।

অন্যদিকে, গত পাঁচ মাস ১৫ দিনে ৪৭টি দেশে ২৫ হাজার ৯১৫ জন নারী শ্রমিক গেছেন। গত বছরের একই সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন ২৩ হাজার ৯৩৬ জন নারী শ্রমিক।

সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে। দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ জন।

চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। অথচ গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে গিয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৬৪ জন।

প্রবাসী আয় ও কর্মসংস্থানেও প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা, শ্রমবাজারের পরিস্থিতি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ও নতুন কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান কমে গেছে। ইতোমধ্যে বিদেশে অবস্থানরত অনেক শ্রমিকেরও নির্দিষ্ট চুক্তি বা স্থায়ী কাজ নেই। তারা সপ্তাহ বা মাসভিত্তিক চুক্তিতে কাজ করেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এসব কাজ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে এবং অনেকেই কাজ হারিয়েছেন।

বিনিয়োগ কমলে কমবে কর্মসংস্থান

শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, সংঘাতকে কেন্দ্র করে তৈরি পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক চিত্রও বদলে দিচ্ছে। দুবাই ও কাতারের মতো অঞ্চল গত কয়েক দশক ধরে নিরাপদ বিনিয়োগের স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে বিনিয়োগ করতে আসত।

তবে এসব এলাকায় হামলা বা যুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটলে নিরাপদ বিনিয়োগের সেই ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের কারণে রিয়েল এস্টেট ও ব্যবসা-বাণিজ্যও প্রভাবিত হয়েছে। আর বিনিয়োগ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পর বোঝা যাবে নিয়োগকর্তারা তাদের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করছেন কি না, প্রবাসী শ্রমিকেরা আরও কাজ হারাবেন কি না এবং ভবিষ্যতে কাজের ধরনে কী ধরনের পরিবর্তন আসে।

এ জাতীয় আরো খবর..
Classic Software Technology

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আজকের অর্থনীতি ২০১৯।

কারিগরি সহযোগিতায়: