আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গণমাধ্যমের সংঘাত নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কঠিন প্রশ্ন এড়াতে ট্রাম্পের একটি বিশেষ কৌশল বেশ নজরে এসেছে। সেটি হলো সরাসরি সাংবাদিকদের ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ দেওয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে ট্রাম্পের এই আচরণ এক ধরনের ‘চুপ থেরাপি’ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয়ে চাপ দিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অনেক সময় ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তখন সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমাতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন অনুরোধ করেছিলেন কি না—সিএনএনের এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে ট্রাম্প তাকে বারবার ‘চুপ করো’ বলে থামিয়ে দেন।
আমেরিকার সামরিক বাহিনীর বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা সেনাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও ট্রাম্পকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ হতে দেখা যায়।
এ ছাড়া কোনো সাংবাদিক যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের করা কঠোর সমালোচনা বা অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন ট্রাম্প অনেক সময় আক্রমণাত্মকভাবে তার জবাব দেন।
বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বা সৌজন্যমূলক অনুষ্ঠানের মধ্যে নীতিগত কিংবা রাজনৈতিক প্রশ্ন করাও ট্রাম্প পছন্দ করেন না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে এক শিশুকে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা প্রশ্ন শুরু করলে ট্রাম্প তাদের ‘উচ্ছৃঙ্খল’ বলে মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নের মুখে পড়লে উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে সাংবাদিকদের থামিয়ে দেওয়া বা বিষয় পরিবর্তনের চেষ্টা ট্রাম্পের পরিচিত রাজনৈতিক কৌশলগুলোর একটি। অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়ানো এবং সংবাদমাধ্যমের চাপ সামলাতেই তিনি এমন আচরণ করেন বলে তাদের ধারণা।